সি প্রোগ্রামিং ভাষা কি
সি এক ধরণের স্ট্রাকচার বা প্রসিকিউর ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। সি একটি মধ্যম স্তরের ভাষা। আমেরিকার বিখ্যাত বেল টেলিফোন ল্যাবরেটরি AT & T এর দুজন বিখ্যাত প্রোগ্রামার ব্রিয়ান কার্নিহান এবং ডেনিস রিচি ১৯৭০ সালে সি ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করেন। সি ল্যাঙ্গুয়েজ মার্টিন রাইকার্ডস এর উদ্ভাবিত BCPL প্রোগ্রাম ভাষা থেকে উদ্ভব হয় বলে এর আদ্যক্ষর B এর পরের অক্ষর C কে গ্রহণ করা হয়েছে।
সি প্রোগ্রামিং ভাষার বৈশিষ্ট্যঃ
বিভিন্ন ধরণের বৈশিষ্ট্যের জন্য ‘সি’ আজ খুব জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা। কারণ ‘সি’-তে উচ্চ পর্যায়ের ভাষার সুবিধাদিসহ নিমণ পর্যায়ের ভাষার সমন্বয় ঘটানো যায়। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো:
• সি একটি মধ্যম স্তরের ভাষা। এ ভাষায় কম্পিউটারের বিট পর্যায়ের প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও সিস্টেম প্রোগ্রাম রচনা করা যায়।
• সি দিয়ে সব ধরণের কাজের জন্য প্রোগ্রাম তৈরি করা যায়। তাই একে General Purpose Language বলা হয়।
• সি ল্যাংগুয়েজে মূল সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগে প্রয়োজনীয় ভ্যারিয়েবল, ফাংশন, কনেট্রাল স্টেটম্যান্ট ব্যবহার করা যায়। এই কারণে সি-কে স্ট্রাকচার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয়।
• সি ভাষায় অনেক লাইব্রেরি ফাংশন আছে যা ব্যবহার করে প্রোগ ্রামারেরা প্রোগ্রাম লিখতে সুবিধা পায়।
• সি ভাষায় অল্প সংখ্যক কী ওয়ার্ড দিয়ে লিখা হয় এবং এর শুরম্ন হয় main( ) ফাংশন-এর মাধ্যমে।
• সি প্রোগ্রাম দিয়ে লিখা প্রোগ্রাম বিভিন্ন মেশিনে ব্যবহার করা যায়।
• সি ভাষায় বিট পর্যায়ের প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও সিস্টেম প্রোগ্রাম রচনা করা যায়।
• সি ভাষা কেস সেন্সিটিভ। ফলে ইংরেজি বড় বা ছোট হাতের আইডেন্টিফায়ারগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থ নির্দেশ করে।
যেমন, name I Name বা sum()ও SUM () যথাক্রমে ভিন্ন ভেরিয়েবল ও ফাংশন বুঝায়।
সি ভাষার ব্যবহার
সি ভাষায় রচিত প্রোগ্রাম অপেক্ষাকৃত কার্যকর ও বহুমুখী। তাই বিবিধ প্রোগ্রাম তৈরির উদ্দেশ্যে সি ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলি প্রায় সবই সি ভাষা দিয়ে তৈরি। সি ভাষায় অ্যাসেম্বলি এবং উচ্চতর প্রোগ্রাম ভাষার মধ্যে এক ধরণের সমন্বয় করা যায়। এর ফলে এ ভাষাটি মধ্যম সত্মরের ভাষা হিসেবে সিস্টেম পে ্রাগ ্রাম তৈরিতেও বহুভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সি ভাষাকে কম্পিউটার ভাষার প্রাণ বলে অভিহিত করা হয়। সি ভাষা দিয়ে যেসব প্রোগ্রাম লেখা যায় তা হলো-
• অপারেটিং সিস্টেম
• সিস্টেম সফটওয়্যার
• ডেটাবেজ প্রোগ্রাম
• কম্পিউটার গেমস
• নেটওয়ার্ক ড্রাইভারস
• ভাইরাস ও এন্টিভাইরাস
• এপিস্নকেশন প্রোগ্রাম
• বিভিন্ন ধরণের অনুবাদক প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
সি এর সীমাবদ্ধতা
আশির দশকে মধ্য স্তরের ভাষা হিসেবে সি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। তবে বর্তমানে প্রচলিত অনেক প্রোগ্রাম ভাষা অপেক্ষা সি এর Reliability এবং Portability-এর কিছু কমতি আছে। সি এর প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এটি প্লাটফর্ম নির্ভর। সি নির্দিষ্ট কিছু হার্ডওয়ার ও সফটওয়ারের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে সি এর কম্পাইলার দ্বারা উৎপন্ন অবজেক্ট কোড পুরোপুরি মেশিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট নয়। অর্থাৎ এক ধরণের মেশিন ও অপারেটিং সিস্টেম কর্তৃক অনুবাদিত প্রোগ্রাম সব ধরণের মেশিন ও অপারেটিং সিস্টেমে রান করে না। সি একটি ডস ভিত্তিক প্রোগ্রাম হওয়ায় উইন্ডোজ ভিত্তিক এপ্লিকেশন তৈরিতে সি-তে সয়ংক্রিয় অনেক সুবিধা পাওয়া যায় না। সি এর গ্রাফিক্যাল সিস্টেম কেবল স্থির চিত্র ও টেক্সট প্রদর্শনে সীমাবদ্ধ। বর্তমানে ইন্টারনেট ও ই- মেইলের যুগে সি www প্রযুক্তির সাথে তেমন সম্পর্কযুক্ত নয়। তবে সি++ আবির্ভাবের ফলে এর সীমাবদ্ধতা অনেকাংশে দূর হয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সি ভাষার সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরেও বলা যায় - সি ইজ দ্যা বেস্ট।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions