Home » » উল্কা কাকে বলে

উল্কা কাকে বলে

উল্কা কাকে বলে

উল্কা (Meteor): উল্কা হলো আসলে মহাজাগতিক বস্তুকণা, যা দূর-মহাকাশ থেকে অতি দ্রুতগতিতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করার পর বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষনের ফলে জ্বলে উঠে আলো দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভাজিত ও বাষ্পীভূত হয়ে যায়।প্রতিদিন অন্তত ১০০ কোটি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে প্রবেশকালে এদের গতিবেগ থাকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১১ থেকে ৭২ কিলোমিটারের মধ্যে। উল্কা যদি আকাশে সম্পূর্ণরূপে জ্বলে না গিয়ে বায়ুমন্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে তাহলে তাকে উল্কাপিন্ড বলা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১০০০ থেকে ২০০০ উল্কাপিন্ড পৃথিবীপৃষ্ঠে পতিত হয়। বৃহত্তম উল্কাপিন্ডের ব্যাস প্রায় এক কিলোমিটারের মতো এবং ক্ষুদ্রতমটির আকার আলপিনের মাথার মতো। বছরের কোনো কোনো সময় উল্কার ঝাঁক দেখা যায়। মোটামুটি হিসাব থেকে দেখা যায় যে, পৃথিবী প্রতি বছর (10x8) কিলোগ্রামেরও বেশি পরিমাণ উল্কাপিন্ড পদার্থ সংগ্রহ করে, অধিকাংশই অতি ক্ষুদ্র (১ মিলিমিটারের কম ব্যাসবিশিষ্ট) উল্কাপিন্ডের আকার। এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র উল্কাপিন্ড বায়ুমন্ডলে বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষনের পরেও টিকে থাকে এই কারণে যে, এদের ক্ষুদ্র আকার এদের বাষ্পীভূত হওয়ার আগেই ঘর্ষণ সৃষ্ট তাপ বিকিরিত হয়ে যেতে সাহায্য করে।

উল্কার উজ্জ্বলতা যদি শুক্রগ্রহের উজ্জ্বলতার চেয়ে বেশি হয় তবে তার নাম Fire Ball (ফায়ার বল) বা অগ্নিগোলক। পরিস্কার মেঘমুক্ত, আমাবস্যার রাতে ঘন্টায় প্রায় পাঁচটির মতো উল্কা দেখা যায়। তবে ভোরের আকাশে সন্ধার চেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায়। কতো উচ্চতায় উল্কা দেখা যাবে তা নির্ভর করে উল্কাণুর প্রাথমিক গতিবেগ, প্রবেশকোণ, আদি ভর এবং উল্কাণুর উপাদানের ক্ষমতার উপর। খালি চোখে এই উচ্চতা হতে পারে ১১০ থেকে ৮০ কিলোমিটার এবং এদের বেগ থাকে প্রায় ৩০ কিমি/সে.। এই তীব্র বেগে যখন উল্কা পৃথিবীর উচ্চ বায়মন্ডলে প্রবেশ করে তখন বায়ুকণার সাথে সংঘর্ষের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপে উল্কা বাষ্পীভূত হয়ে যায়। দহনের অবশেষ হিসেবে থাকে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, সিলিকন, লোহা ইত্যাদি। এছাড়া উল্কাপথগুলোর তাপমাত্র কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। এই সময়ে উৎপন্ন মুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও বিকিরণ ঘটায়। 

আকাশের যে স্থান থেকে উল্কা পড়ে বলে মনে হয় তার নাম বিকিরণ বিন্দু। যদি কোনো নির্দিষ্ট তারামন্ডলীর কাছ থেকে অসংখ্য উল্কার পতন হয়, তবে তাকে উল্কাবৃষ্টি বলে। এই বিকিরণ বিন্দু আসলে কোনো জ্যামিতিক বিন্দু নয় এবং আকাশে এদের ব্যাস কয়েক ডিগ্রি হতে পারে। যদিও উল্কাবৃষ্টির স্থান ও প্রাবল্য প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়, তবু কিছু কিছু অঞ্চল থেকে নির্দিষ্ট সময়ান্তরে অপরিবর্তিতভাবেই উল্কাবৃষ্টি হয়। এদের নাম প্রধান উল্কাবৃষ্টি।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->