বর্তমান কাল কাকে বলে?
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।
ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল :
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোেঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। যথা:
সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা) |
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়। (২) ঐতিহাসিক বর্তমান অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন:
বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
(৩) কাব্যের ভণিতায় : মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।
(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে : কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।
(৫) যদি’, ‘যখন’, ‘যেন’ প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়। যেমন:
বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।
সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে) : এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে) : চণ্ডীদাস বলেন,
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে) : আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
(৪) ‘নেই’, ‘নাই’ বা ‘নি’ শব্দযোেগ অতীত কালের ক্রিয়ায় : তিনি গতকাল হাটে যাননি। |
খ. ঘটমান বর্তমান কাল :
যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বােঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল
ব্যবহৃত হয়। যথা-হাসান বই পড়ছে। নীরা গান গাইছে।
ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ
(১) বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। যথা-বক্তা বললেন, “শত্রুর অত্যাচারে | দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।”
(২) ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে : চিন্তা করো না, কালই আসছি।
গ. পুরাঘটিত বর্তমান কাল :
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান | কাল ব্যবহৃত হয়। যেমন
এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions