Home » » পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল

পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল

উপমহাদেশের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ একটি বেদনাবহুল খন্ড যুদ্ধ হলেও এ যুদ্ধের ফলাফল ছিল সদূরপ্রসারী। বিশেষ করে, এ যুদ্ধের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। 

প্রথমত: পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার অকাল মৃত্যু হলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য দীর্ঘদিনের জন্য অস্তমিত হয়। 

দ্বিতীয়তঃ এ যুদ্ধের ফলে মীর জাফর নামে মাত্র নবাব হলেন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা রইলো ক্লাইভের হাতে। 

তৃতীয়ত: পলাশীর যুদ্ধের পর উপমহাদেশে ইংরেজদের সার্বভৌমত্ব স্থাপিত না হলেও তারা নতুন নবাবের কাছ থেকে নগদ এক কোটি টাকা এবং চব্বিশ পরগনার বিশাল জমিদারী লাভ করেন। ফলে বাংলার রাজনীতিতে ইংরেজদের যখন তখন হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।

চতুর্থত: এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজগণ বাংলায় একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করেন আর এদেশীয় বণিকদের সমাধি রচিত হয়। 

পঞ্চমতঃ এ যুদ্ধে বিজয়ের ফলে ইংরেজরা বাংলাসহ দাক্ষিণাত্যে প্রভাববিস্তার করে ফরাসি বণিকদের বিতাড়িত করে এবং একচেটিয়াভাবে উপমহাদেশের সম্পদ আহরণ ও ইংল্যান্ডে প্রেরণের ফলে এদেশের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। 

ষষ্ঠত: ঐতিহাসিক আর.সি. মজুমদার বলেন, “পলাশীর যুদ্ধ বাংলা তথা সমগ্র উপমহাদেশে ইংরেজদের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। কালক্রমে বক্সারের যুদ্ধে (১৭৬৪ খ্রি.) তারা নবাব মীর কাসিম ও মুগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে পরাজিত করে সমগ্র উপমহাদেশের শাসনভার গ্রহণ করে। 

সপ্তমতঃ এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজদের সামরিক শক্তি ও প্রতিপত্তি সম্পর্কে জনগণের মনে উচ্চ ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। 

অষ্টমত: পলাশীর যুদ্ধের পর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে উপমহাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 

”১৭৫৭ সালের ২৩ জুন তারিখে উপমহাদেশের মধ্যযুগ শেষ ও আধুনিক যুগের পত্তন হয়েছিল।”

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->