Home » » সামাজিক অসমতা কি / সামাজিক অসমতা কাকে বলে

সামাজিক অসমতা কি / সামাজিক অসমতা কাকে বলে

সামাজিক অসমতা কি / সামাজিক অসমতা কাকে বলে

সমাজবিজ্ঞানে সামাজিক অসমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল মানুষ সমান বলা হলেও বাস্তবে সকল ক্ষেত্রে অসমতা লক্ষ কার যায়। মানুষের প্রাত্যহিক জীবন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে যদি নজর দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে যে, সর্বত্র সামাজিক অসমতা বিরাজমান। উদাহরণ হিসেবে বর্তমান সমাজের বিভিন্ন পদ, সেবার দিকে লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সর্বত্র অসমতা। সমাজে যারা ভালো অবস্থান ও সেবা ভোগ করে তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। যারা কম সুযোগ সুবিধা ভোগ করে বিভিন্ন কাজে, অধিকারের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয় তারা হলো সমাজের সাধারণ শ্রেণি। আবার পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা নারীর উপর কর্তৃত্ব আরােপ করে। সুতরাং সবদিক থেকেই সামাজিক অসমতা বিদ্যমান। সামাজিক অসমতা উত্তরাধিকার ব্যবস্থার মত আমাদের সমাজ কাঠামোর সাথে জড়িত হয়ে আছে। এটি অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে ও ভবিষ্যতে থাকবে। 


সামাজিক অসমতার সংজ্ঞা 

সাধারণভাবে যদি সামাজিক অসমতাকে বোঝাতে চাই তাহলে সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সুযোগসুবিধা, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান ও পরিচিতি এবং পদমর্যাদাকে কেন্দ্র করে যে অসম অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হয়ে থাকে সেটাই হলো সামাজিক অসমতা। সামাজিক অসমতা হলো সামাজিক ভিন্নতা তৈরির এমন এক প্রক্রিয়া, যার দ্বারা সামাজিক মানমর্যাদা, যশ খ্যাতি, বিত্ত বৈভব ইত্যাদি বিকশিত হয় ও ব্যক্তি সমাজে পরিচিত লাভ করে। 

সামাজিক অসমতা বলতে বোঝায় এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সমাজের সদস্যবৃন্দ অসম পরিমাণ বা মাত্রায় সম্পদ, যশ, খ্যাতি ও ক্ষমতার অধিকারী- Oxford Advanced Learner's Dictionary। 

যখন সমাজের কতিপয় লোক অন্যান্যদের তুলনায় বেশি ক্ষমতা, সম্পদ অথবা খ্যাতির অধিকারী হয় তখন সেখানে সামাজিক অসমতা বিরাজ করে- রবার্টসন। 

সামাজিক অসমতা এমন একটি ক্রমোচ্চমানকে নির্দেশ করে যেখানে অন্যান্য ব্যক্তি, গােষ্ঠী বা পদের তুলনায় কতিপয় ব্যক্তি, গােষ্ঠী বা পদের কাঙ্খিত জিনিস বা বিষয়বস্তু রয়েছে- এম. গিন্সবার্গ


সামাজিক অসমতার উৎপত্তি 

ক্ষুদ্র সমাজ কাঠামোর দিকে তাকালেও আমরা সামাজিক অসমতার উপস্থিতি লক্ষ করি। প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সমাজেও অসমতা ছিল। সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থা ও সামাজিক শ্রেণি ব্যবস্থার মধ্যে পরিবর্তনের মাধ্যমে সব সমাজেই অসমতা টিকে আছে। এখানে সামাজিক অসমতা সম্পর্কে বিভিন্ন মনীষীর ধারণা উপস্থাপন করা হল: 

সামাজিক অসমতা ও এরিস্টটল: অসম সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন-“প্রাকৃতিকভাবেই কিছু মানুষ স্বাধীন ও কিছু মানুষ দাস”। তিনি বিভিন্ন কারণে দাস প্রথাকে সমর্থন করেছেন। এরিস্টটল মূলত দাসত্ব প্রথার সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সামাজিক অসমতা বিষয়ে ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ প্রাকৃতিকভাবে মেধাবী, বিচক্ষণ ও ক্ষমতাধর আর কিছু মানুষ প্রজ্ঞাহীন। প্রজ্ঞাহীনরা সমাজে দাসত্ব করবে আর জ্ঞানীরা সমাজের নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এটাই স্বাভাবিক। এদের অধীনে থাকবে দেশের সাধারণ মানুষ। 

সামাজিক অসমতা ও কার্ল মার্কস: কার্ল মার্ক ও তাঁর সহযোগীরা মনে করেন যে, সমাজজীবনের সূচনাকাল থেকে সামাজিক অসমতা ছিল না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মুনাফা হলো মুখ্য বিষয় আর এক্ষেত্রে মালিক শ্রেণি সবসময় শ্রমিক শ্রেণিকে শোষণ করে। মালিক শ্রেণি শোষণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে অসমতা টিকিয়ে রাখে। 

সামাজিক অসমতা ও এমিল ডুর্খেইম: এমিল ডুর্খেইমের বক্তব্য এর সাথে এরিস্টটলের বক্তব্যের মিল রয়েছে। ডুর্খেইম বলেন যে, প্রাকৃতিকভাবে কিছু মানুষ মেধাবী যারা অন্যদের থেকে আলাদা। সমাজের পরিচালনা ও বড় কাজগুলো মেধাবীরা পরিচালনা করে। পক্ষান্তরে, অন্যন্য কাজগুলো সাধারণ মানুষেরা করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার ফলে মেধাবীরা সমাজের মর্যাদায় আসনে আসীন হয়। এভাবে সামাজিক অসমতার সৃষ্টি হয়।


বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অসমতা 

সামাজিক অসমতা সমাজের সবক্ষেত্রে বিদ্যমান। নিম্নে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অসমতার বর্ণনা দেওয়া হলো: 

রাজনৈতিক অসমতা: রাজনৈতিক অসমতা বর্তমান সমাজে লক্ষণীয়। রাজনৈতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ক্ষমতাশালীরা ভোগ করে। এছাড়াও আইনের সুযোগ লাভের অধিকার এর উপর রাজনৈতিক অসমতা নির্ভর করে। 

আয় ও সম্পদের অসমতা: সম্পদের মালিকানা ও আয়ের বৈষম্য বিভিন্ন সমাজে লক্ষ করা যায়। সম্পদ মূলত সমান সুযোগ মুষ্টিমেয় শ্রেণির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আয়ের ক্ষেত্রেও সম্পদের মতো বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। 

নাগরিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে অসমতা: মানুষের জীবনকে অর্থবহ করার জন্য সমাজে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু সুযোগ সুবিধা গ্রহণের মতো ক্ষমতা সবার থাকে না। ফলে অসমতার সৃষ্টি হয়। 

জেন্ডার ও জাতিগত অসমতা: সমাজে জেন্ডারের তারতম্যের বিচারে অসমতা লক্ষ করা যায়। অনেক সমাজেই নারী ও পুরুষের মধ্যে অসমতা বিরাজ করে। একজন পুরুষ তুলনায় একজন নারী সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করে না। জাতিগত অসমতা সকল সমাজে কম বেশি বিদ্যমান। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অসমতার মূল কারণ জাতিগত ভিন্নতা। 

শ্রমের বিভাজন ও সামাজিক অসমতা: শ্রমের বিভাজনেও অসমতা লক্ষণীয়। একটি সমাজে বিভিন্ন পেশা বিদ্যমান আর এক্ষেত্রে পেশাগত ও কর্মদক্ষতার ভিন্নতা সামাজিক অসমতা তৈরি করে। 

সমাজের সদস্য হিসেবে অসমতা: সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তির যে সমতার রয়েছে সেটা নানা কারণে বাস্তবে রূপায়িত করা সম্ভব হয় না। সমাজের সদস্য হিসেবে অধিকার ভোগ করা সম্ভব হয় না। সম্পদশালী ব্যক্তিরা সমাজে অসমতার অন্যতম কারণ।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Basic Computer Course

MS Word
MS Excel
MS PowerPoint
Bangla Typing, English Typing
Email and Internet

Duration: 2 months (4 days a week)
Sun+Mon+Tue+Wed

Course Fee: 4,500/-

Graphic Design Course

Adobe Photoshop
Adobe Illustrator

Duration: 3 months (2 days a week)
Fri+Sat

Course Fee: 9,000/-

Web Design Course

HTML 5
CSS 3

Duration: 3 months (2 days a week)
Fri+Sat

Course Fee: 8,500/-

Digital Marketing Course

Facebook, YouTube, Instagram, SEO, Google Ads, Email Marketing

Duration: 3 months (2 days a week)
Fri+Sat

Course Fee: 15,000/-

Class Time

Morning to Noon

1st Batch: 08:00-09:30 AM

2nd Batch: 09:30-11:00 AM

3rd Batch: 11:00-12:30 PM

4th Batch: 12:30-02:00 PM

Afternoon to Night

5th Batch: 04:00-05:30 PM

6th Batch: 05:30-07:00 PM

7th Batch: 07:00-08:30 PM

8th Batch: 08:30-10:00 PM

Contact:

Alamin Computer Training Center

796, West Kazipara Bus Stand,

West side of Metro Rail Pillar No. 288

Kazipara, Mirpur, Dhaka-1216

Mobile: 01785 474 006

Email: alamincomputer1216@gmail.com

Facebook: www.facebook.com/ac01785474006

Blog: alamincomputertc.blogspot.com

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->