ই লার্নিং কি
ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাই হচ্ছে ই লার্নিং। অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাডেমি তাদের শিক্ষাউপকরণের সকল বিষয় ডিজিটালাইজ করার মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। অনলাইন ভিত্তিক এসকল শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় বড় ডিগ্রি পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। এটিই হলো ই লার্নিং। এছাড়া ইন্টারনেটের ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা এ্যাপ এর মাধ্যমেও শিক্ষা অর্জন করাকেও ই লার্নিং বলা হয়। ই লার্নিং পদ্ধতিতে যে কোন সময় যে কোন স্থানে থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব। বর্তমানে পড়ালেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ই লার্নিং পোর্টাল চালু হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পছন্দের বিষয়টি নিয়ে পড়াশুনা করতে পারে। এ ধরনের শিক্ষা পোর্টালগুলো ফ্রি ও প্রিমিয়াম (অর্থের বিনিময়ে) উভয় ধরনের হয়।
বর্তমান সময়ে ই-লার্নিং খুবই আলোচিত বিষয়। দেশে কিংবা বিদেশে সবখানেই এর জয়জয়কার। ধরাবাঁধা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই শিক্ষা ব্যবস্থাটি। দিন দিন প্রযুক্তি উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। আর এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে অনেক কিছু । শিক্ষা ব্যবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। ইন্টারনেট আর কম্পিউটারের হাত ধরে এখানে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জ্ঞানার্জনের বিষয়টি এখন আর দুই মলাটের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। একটি কম্পিউটার আর সাথে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যে কোন জায়গায় বসেই বিভিন্ন বিষয়ের উপর আজকাল সহজেই দক্ষতা অর্জন করা যায়।
ই-লার্নিং শব্দটি ইলেকট্রনিক লার্নিং কথাটির সংক্ষিপ্ত রূপ। মূলত প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি ক লাস করা কিংবা কোন বিষয়ের উপর জ্ঞানার্জন করার পদ্ধতিই ই-লার্নিং নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে ঘরে বসে সুবিধাজনক সময়ে পছন্দ মতো বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব। যেহেতু এখানে ধারাবাঁধা ক লাসের ব্যাপারটি থাকে না, তাই সুবিধামতো সময়ে শেখার কাজটি চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী বিশাল। দিন দিন জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যাও সে কারণে দিন দিন বাড়ছে। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে আমাদের স্কুলগুলোতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। লেখাপড়ার জন্য দরকারী সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ল্যাবরেটরি অপ্রতুল, ফলে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ খুব কম। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ই-লার্নিং বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষ একজন শিক্ষকের পাঠদান ভিডিও করে নিয়ে সেটি অসংখ্য স্কুলে বিতরণ করা যেতে পারে। একজন শিক্ষক প্রয়োজনে নিজেই তার পাঠদান সহায়তা করার জন্য প ্রয়োজনীয় বিষয় তৈরি করতে পারেন এবং সেটি বারবার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও অর্থের অভাবে কিংবা পারিপাশির্বক কারণে অনেক শিক্ষার্থীই মাঝপথে লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয়। দেশের অনেক অঞ্চলেই এখনও সেভাবে শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এ সকল স্থানে ই-লার্নিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সারা পৃথিবীতেই ই-লার্নিংয়ের জন্য নানা উপকরণ তৈরি হতে শুরম্ন করেছে। পৃথিবীর বড় বড় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং যে কেউ সেই কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে পারে। এমনকি একজন একটি কোর্স নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে কিংবা অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে সেই কোর্সটি সম্পূর্ণ করতে পারছে। ই-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বর্তমানে আমাদের দেশেও রয়েছে একাধিক ই-লার্নিং কার্যক্রম। বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বাংলায় কোর্স দেবার জন্য বেশ কিছু ওয়েবসাইট পোর্টাল তৈরি করেছেন এবং সারা পৃথিবী থেকে যে কেউ বাংলা ভাষায় সেই কোর্সগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
বাংলাদেশে উত্তম পাঠদানের সীমাবদ্ধতা দূর করার ব্যাপারে ই-লার্নিং অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারলেও দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠদানের সময় একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখতে পারে ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে পারে। তেমনি শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকের সাথে সরাসরি নানা বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে ও ভাববিনিময় করতে পারে। মূলত ই-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকায় পদ্ধতিটা যান্ত্রিক বলে মনে হতে পারে। তাই ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে কোন কোর্স করতে হলে শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি উদ্যোগী হতে হবে।
বাংলাদেশে ই-লার্নিংয়ের অনেক বড় সুযোগ রয়েছে। সেজন্য ইন্টারনেটের স্পীড, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ইলার্নিংয়ের শিখন সামগ্রীগুলো তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions