Home » » ই বুক কি

ই বুক কি

ই বুক কি

ই-বুক (Ebook) শব্দটির অর্থ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক বুক (electronic book)। সাধারণ একটি বইয়ের কনটেন্ট বা উপকরণকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পড়ার উপযোগী করে উপস্থাপন করা হলে একে ই-বুক বলে। ই-বুককে ডিজিটাল বুক বা ই-সংস্করণও বলা হয়। এতে সাধারণ বইয়ের মতই লেখা, ছবি, চিত্রলেখ ইত্যাদি থাকে। কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রে (ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোন) তা পড়া যায়। সারা দুনিয়ায় এখন ই-বুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই আশংকা করছেন কাগজে মূদ্রিত বইয়ের যুগ শেষ হয়ে আসছে। 

ই-বুকের প্রকারভেদ

বর্তমানে ই-বুকের বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ই-বুক রয়েছে। তবে, সাধারণভাবে ই-বুককে নিমেণাক্ত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:

• মুদ্রিত বইয়ের হুবহু প্রতিলিপি। এই ধরনের ই-বুকগুলো মূলত মুদ্রিত বইয়ের মতই হয়ে থাকে। সচরাচর এগুলো পিডিএফ (পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাট) আকারে প্রকাশিত হয়ে থাকে। সম্পূর্ণ বই একসঙ্গে অথবা অধ্যায় হিসেবে পাওয়া যায়।

• যে ই-বুকগুলো কেবল অনলাইনে তথা ইন্টারনেটে পড়া যায়, এগুলো সচরাচর এইচটিএমএল-এ প্রকাশিত হয়। এগুলোকে বই-এর ওয়েবসাইট বা বস্নগও বলা যায়।

• মুদ্রিত বই-এর মতো কিন্তু কিছুটা বাড়তি সুবিধাসহ রয়েছে অন্য এক ধরনের ই-বুক। এগুলো বই-এর কনটেন্ট ছাড়াও পাঠকের নিজের নোট লেখা, শব্দের অর্থ জানা ইত্যাদি সুবিধা থাকে। এগুলোর বেশিরভাগই ই-পাব (EPUB) ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। এসব ই-বুকের কোনো কোনোটি কেবল বিশেষ ডিভাইসে পড়া যায়। যেমন: ফিল্ডস বা আইবুক রিডারে পড়ার উপযোগী ই-বুক। তবে, ফিল্ড বা আইবুকের ক্ষেত্রে নিজস্ব ফরম্যাট রয়েছে।

• আরেক ধরনের ই-বুক রয়েছে, যার নাম চৌকস ই-বুক। এই বইগুলোতে লিখিত অংশ ছাড়াও অডিও/ভিডিও/এনিমেশন ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে। এই বইগুলোকে স্মার্ট ই-বুক বলা হয়। এগুলোর কনটেন্ট মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ। যেমন: এতে কুইজ থাকে, কুইজের উত্তর করার ব্যবস্থাও থাকে এবং উত্তর সঠিক হয়েছে কিনা তাও ই-বুক থেকেই জানা যায়। এমনকি এসব ই-বুকে ত্রিমাত্রিক ছবিও যুক্ত থাকে। তবে, অনেক ক্ষেত্রে এর উৎপাদনকারী বা নির্মাতারা এ সকল ই-বুক এমন ফরম্যাটে তৈরি করেন যা কেবল নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারে চলে। যেমন: ওপেন কম্পিউটার্সের তৈরি আইবুক কেবল আইপ্যাড বা ম্যাক কম্পিউটারে ভালোভাবে পড়া যায়।

• এ ছাড়াও রয়েছে ই-বুকের অ্যাপস। এক্ষেত্রে ই-বুকটি নিজেই একটি অ্যাপস আকারে প্রকাশিত হয়। অ্যাপস ডাউনলোড করে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে পড়া যায়। মুদ্রিত বই-এর মতো ই-বুকও কপিরাইটের আওতায় প্রকাশিত হয়ে থাকে।

পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, জাদুঘর, পাঠাগারসমূহ তাদের দুষ্প্রাপ্য ও কপি রাইটমুক্ত বইগুলো ইবুকে রূপান্তর করে তাদের ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করে রাখে। যে কেউ চাইলেই তা ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারে। 

ব্যবহারের সুযোগ অনুসারে ই-বুক সাধারত চার প্রকারের পাওয়া যায়।

১. বিনামূল্যে পড়া ও ডাউনলোড করা যায় এমন ই-বুক।

২. বিনামূল্যে কেবল পড়া যায় এমন ই-বুক।

৩. বিনামূল্যে আংশিক পড়া যায় এমন ই-বুক।

৪. ক্রয় করে পড়তে হয় এমন ই-বুক।

যেসব ই-বুক ক্রয় করে পড়ার জন্য দেয়া হয় তা বিনামূল্যে পড়া এক ধরনের অপরাধ। এছাড়া ই-বুকে ব্যবহৃত কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করাও অনৈতিক। কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি লেখক ও প্রকাশকের অনুমতি ব্যতিরেকে বই স্ক্যানের মাধ্যমে ইবুক তৈরি করে ইন্টারনেটে আপলোড করে। এতে মূল লেখক ও প্রকাশক আর্থিকভাবে দারম্নণ ক্ষতিগ্রস্থ হন। এ কারণে অনেক সৃজনশীল ও মননশীল বইয়ের বিক্রি কমে যাচ্ছে। প্রকাশনা শিল্প ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবশ্য কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে ই-বুক ডাউনলোড করে পড়া যায়। 

কিছু আন্তর্জাতিক মানের ই বুক ওয়েবসাইট হচ্ছে:

FreeBookSpot, 4eBooks, Free-EBooks, ManyBooks, GetFreeEBooks, ESnips, FreeTechBooks, Scribd, Globusz, KnowFree, EBoook3000, SlideShare, Book Gold Mine, EBooks-Space, E-BookDirectory, UFindBook, dli.ernet.in ইত্যাদি।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->