তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
ICT হচ্ছে Information and Communication Technology -এর সংক্ষিপ্ত রূপ, বাংলায় যার অর্থ ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ নামে পরিচিত। এককভাবে ICT -এর সর্বজনস্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। কেননা বিভিন্নক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে ICT-এর প্রয়োগ হচ্ছে।
ICT তিনটি ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। সেগুলো হচ্ছে-
- তথ্য (Information)
- যোগাযোগ (Communication)
- প্রযুক্তি (Technology)
সংগৃহীত ডেটা বা উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর প্রয়োজন মত সাজানো বা অর্থপূর্ণ অবস্থাকে তথ্য বা ইনফরমেশন বলা হয়।
সাধারণভাবে, কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা পরিকল্পনা প্রণয়ন, বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপাদান হিসেবে যা ব্যবহৃত হয় তাকেই তথ্য বলা হয়ে থাকে। তবে তথ্য হতে হলে এটিকে অবশ্যই ঐ নির্দিষ্ট কাজের জন্য অর্থবোধক, নির্ভুল, প্রাসঙ্গিক এবং পুর্নাঙ্গ হতে হবে। আর তথ্য তৈরি, প্রবাহ, সংরক্ষণ, বিনিময়, যোগাযোগ, পুনরুদ্ধার ইত্যাদির জন্য যে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে তা-ই ICT।
‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (ICT) তথ্যের আদান-প্রদান, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন এক অসাধারণ সুযোগ সষ্টি করেছে যার অনুপস্থিতিতে স্বাচ্ছন্দ্যময় আধুনিক জীবন চিন্তাই করা যায় না। ব্যক্তিজীবনের উৎকর্ষ সাধন, জাতীয় জীবনের উন্নতি ও প্রগতি এবং বিশ্বের জাতিসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ এক অভিন্ন পরিবারের সোনালী স্বপ্ন দেখিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের জ্ঞান ও তথ্যভান্ডারে প্রবেশের অসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। দৈনন্দিন জীবন, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, মেধাচর্চা ও সৃজনশীলতার বিকাশ, বিনোদন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার উত্তরোত্তর বদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এটি মানুষের মানসম্পন্ন কর্মসম্পাদনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। উন্নত বিশেব শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিখন-শেখানো কার্যক্রম হয়ে উঠেছে অত্যধিক কার্যকর, আকষর্ণীয় ও বৈশ্বিক। এতে একদিকে যেমন শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি তাদের চাহিদায় সাড়া দিতে গিয়ে শিক্ষকের ভূমিকায়ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে। তাছাড়া কর্মপদ্ধতি, শ্রমবাজার ও যোগাযোগ জগতে এক নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। ফলশ্রুতিতে আধুনিক বিশব নুতন নুতন দক্ষতার কিংবা দক্ষতার নবায়নের প্রয়োজন বোধ করছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রজন্মের এ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ প্রচলিত শিক্ষাক্রমে একেবারেই অপ্রতুল। যার প্রভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারজনিত বৈষম্য (Digital divide), সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারতব, দারিদ্র্য ইত্যাদি সমস্যাগুলো অদূর ভবিষ্যতে আরো প্রকট হয়ে দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আমাদের শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত করা হচ্ছে। তাই আমাদের সামনে এসে দাড়াচ্ছে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-
(১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা এবং
(২) শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
এই বিষয় দুটোকে অনেকেই একসাথে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু বিষয় দুটো সম্পূর্ণ পৃথক।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিশিক্ষা
যখন আইসিটি নিয়ে আলোচনা করা হবে অর্থাৎ তথ্য কী, যোগাযোগ কীভাবে করতে হয়, কোন কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়, প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার ইত্যাদি তবে তা হবে আইসিটি শিক্ষা।
জাতীয় শিক্ষানীতি এর আলোকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিমণরূপ:
• উপর্যুক্ত কর্মযজ্ঞের জন্য তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় আমত্মর্জাতিক মান ও গুণ সম্পন্ন শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির প্রচেষ্টা চালানো।
• তথ্যপ্রযুক্তিকে শুধুমাত্র কম্পিউটার বিজ্ঞানের মাঝে সীমিত না রেখে মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, নেটওয়ার্কিং কিংবা সকল তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ।
শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিখন শেখানো প্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করাকে বোঝানো হয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions