Home » » ধ্বনি কাকে বলে

ধ্বনি কাকে বলে

ধ্বনি কাকে বলে?

ধ্বনি/বর্ণের সংজ্ঞার্থ, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব বা ষত্ব-বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়। বাংলা ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলো প্রধানত দু প্রকার যথা-স্বরধবনি ও ব্যঞ্জন ধ্বনি।

১. স্বরধ্বনি : যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও কোনো প্রকার বাধা পায়না, তাদের বলা হয় স্বরধ্বনি (Vowel Sound)। যেমন- অ, আ, ই, উ, ঊ ইত্যাদি।

২. ব্যঞ্জনধ্বনি : যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও বাধা পায় কিংবা ঘর্ষণ লাগে, সেগুলো ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant Sound) যেমন- ক খ গ ঘ ইত্যাদি।

উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জন ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ

ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ জিহবা ও ওষ্ঠ। আর উচ্চারণের স্থান হলো কন্ঠ বা জিহবামূল, অগ্রতালু, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্রদন্তমূল, ওষ্ঠ ইত্যাদি। উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচভাগে ভাগ করা যায়-

১. কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয়: ক খ গ ঘ ঙ

২. তালব্য বা অগ্রতালুজাত: চ ছ জ ঝ শ য

৩. মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্ত্য মূলীয়: ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়

৪. দন্ত্য বা অগ্র দন্ত্যমূলীয়: ত থ দ ধ ন ল স

৫. ওষ্ঠ্য: প ফ ব ভ ম

উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যঞ্জন ধ্বানিগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অঘোষ এবং ঘোষ।

১. অঘোষধ্বনি : উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, যেমন- ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।

২. ঘোষ ধ্বনি : উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, যেমন- গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি।

উচ্চারণে বাতাসের চাপের তারতম্যের ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনি দু প্রকার- অল্পপ্রাণ এবং মহাপ্রাণ।

১. অল্পপ্রাণ : উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, যেমন- ক, গ, চ, জ ইত্যাদি।

২. মহাপ্রাণ : উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, যেমন- খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।
 

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->