Home » » কার ও ফলা

কার ও ফলা

কার ও ফলা

কার : 

স্বরবর্ণের এবং কতগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের দুটি রূপ রয়েছে। স্বরবর্ণ যখন নিরপেক্ষ বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় না, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়। একে বলা হয় প্রাথমিক বা পূর্ণরূপ। | যেমন – অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।


এই রূপ বা form শব্দের আদি, মধ্য, অন্ত - যে কোনো অবস্থানে বসতে পারে। স্বরধ্বনি যখন | ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়, তখন সে স্বরধ্বনিটির বর্ণ সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। স্বরবর্ণের এ সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় সংক্ষিপ্ত বর বা ‘কার। যেমন – ‘আ’-এর | সংক্ষিপ্ত রূপ (1)। ‘ম’-এর সঙ্গে ‘আ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘’ যুক্ত হয়ে হয় ‘মা’। বানান করার সময় বলা হয় ম এ আ-কার (মা)। স্বরবর্ণের নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়। 

যেমন - আ-কার (1), ই-কার | (0ি, ঈ-কার (ী), উ-কার, ), ঊ-কার (), ঋ-কার (,), এ-কার (৫), ঐ-কার ()ৈ, ও-কার (-), | ঔ-কার (ী)। অ-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা ‘কার নেই।


আ-কার (1) এবং ঈ-কার (ী) ব্যঞ্জনবর্ণের পরে যুক্ত হয়। ই-কার (f), এ-কার (৫) এবং ঐ-কার ()ৈ | ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে যুক্ত হয়। উ-কার (), উ-কার () এবং ঋ-কার () ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে যুক্ত হয়।  ও-কার | (-) এবং ঔ-কার (ী) ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্বে ও পরে দুই দিকে যুক্ত হয়। 

উদাহরণ : মা, মী, মি, মে, মৈ, মু, মূ, মৃ, মাে, মৌ। 


ফলা : 

স্বরবর্ণ যেমন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয়, তেমনি কোনো কোনো ব্যঞ্জনবর্ণও কোনো কোনো ঘর কিংবা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয় এবং কখনো কখনো সংক্ষিপ্তও হয়। যেমন-ম্য, ম ইত্যাদি। স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে যেমন ‘কার’ বলা হয়, তেমনি ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় “ফলা। এভাবে যে ব্যঞ্জনটি যুক্ত হয়, তার নাম অনুসারে ফলার নামকরণ করা হয়। যেমন- ম-এ য-ফলা = ম্য, ম- এ র-ফলা = স্ত্র, ম-এ ল- ফলা = স্ন, ম-এ ব-ফলা = ঘ। র-ফলা ব্যঞ্জনবর্ণের পরে হলে লিখতে হয় নিচে। স্ত্র'; আবার ‘র’ যদি ম-এর আগে উচ্চারিত হয়, যেমন


ম-এ রেফ ‘ম’ তবে লেখা হয় ওপরে, ব্যঞ্জনটির মাথায় রেফ () দিয়ে। ফলা’ যুক্ত হলে যেমন, তেমনি ‘কার’ যুক্ত হলেও বর্ণের আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। যেমন – হ-এ উ-কার=হু, গ-এ উ-কার = গু, শ-এ উ-কার = শু, স-এ উ-কার=সু, র-এ উ-কার = রু, র-এ উ-কার = রূ, হ-এ ঋ-কার=হৃ।


ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি (Plosive)কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বগীয় ধ্বনি। বৰ্গৰ্ভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্ন গুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-

ক খ গ ঘ ঙ - কন্ঠ ধ্বনি ও ক বর্গীয় বর্ণ।

চ ছ জ ঝ ঞ - তালব্য ধ্বনি ও চ বর্গীয় বর্ণ।

ট ঠ ড ঢ ণ - মূর্ধন্য ধ্বনি ও ট বর্গীয় বর্ণ।

ত থ দ ধ ন - দন্ত ধ্বনি ও ত বর্গীয় বর্ণ।

প ফ ব ভ ম - ওষ্ঠ্য ধ্বনি ও প বর্গীয় বর্ণ।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->