অর্জুন গাছ
অর্জুন গাছ (arjuna)
বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র অর্জুন গাছ রয়েছে। অর্জুন গাছ নানা ধরনের রোগ নিরাময়ের কাজে আসে বলে মানুষ এই গাছ লাগায়। কম্রোট্যাসী (Combratrasae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত অর্জুন গাছের বৈজ্ঞানিক নাম টার্মিনালিয়া অৰ্জুনা (Terminalia arjuna)। গাছটি | বেশ বড় হয়। এর কাণ্ড দীর্ঘ, সরল, উন্নত, মসৃণ । বাকল ধূসরাভ ও পাতলা। বাকলের নিচের রঙ পাংশু। গাছের শাখাগুলো উর্ধ্বমুখী, দীর্ঘ। গাছের শীর্ষদেশ ছত্রাকৃতির, প্রসারিত ও ছায়াঘন । ভূমির কাছাকাছি কাণ্ড খাজযুক্ত। অর্জুনের পাতা লম্বা ডিম্বাকৃতির এবং একটু পুরু ও মসৃণ। অর্জুন পত্রমোচী বৃক্ষ । অর্থাৎ শীতে পাতা | ঝরে পড়ে, বসন্তে নতুন পাতা গজায়। সেই সঙ্গে গাছে ফুল আসে । ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় গাছ। ছোট ছোট হালকা হলুদ উগ্রগন্ধী বা দুর্গন্ধযুক্ত ফুল । অর্জুনের ফুল। মৌমাছিদের খুব প্রিয়। ফুল থেকে ফল হয়। ফল | ডিম্বাকৃতির। এতে পাঁচটি খাজ থাকে। ফল বেশ শক্ত । ধরেও অজস্র । গাছের তলা ফলে ফলে ভরে যায় । অর্জুন গাছের কাঠ বেশ শক্ত, কিন্তু আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। নৌকা, ঘরের চৌকাঠ, পাল্লা ও গরুর গাড়িতে এই কাঠ ব্যবহার করা যায়। এর পাতায় তসর পোকার চাষ হয়। চামড়া প্রক্রিয়াকরণ বা ট্যানিং এবং রঞ্জন পদার্থে এর বাকল ব্যবহৃত হয়। অতি প্রাচীন কাল থেকে আয়র্বেদী চিকিৎসায় এই গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে। হৃদ্রোগে খুব সুফলদায়ক বলে প্রমাণিত । বিশেষ করে এর বাকলই ভেষজ হিসাবে কাজে লাগে। বাকল পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বাকলের কষ পানিতে মেশে। রোগীকে এই কষ-মেশানো পানি খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া অরেচক, ক্ষত ও রক্তশূন্যতায় অর্জুন খুব উপকারী। অর্জুন বাকল থেকে ঔষধ তৈরি হয় বলে মানুষ গাছটির বাকল প্রায়ই ছাড়িয়ে নেয়। অতিরিক্ত | বাকল ছিলে নিলে গাছের ক্ষতি হয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions