দৈর্ঘ্য মাপার যন্ত্র আবিষ্কার হয় কিভাবে? জেনে নিন!
দৈর্ঘ্য মাপার যন্ত্র (চতুর্দশ শতাব্দী)
-ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম হেনরী।
কোনো বস্তু সম্পর্কে ধারণা করা যায় তখনই যখন সেই বস্তুকে মাপা যায় এবং তাকে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইংলণ্ডের রাজা প্রথম হেনরী দৈর্ঘ্য মাপার এককের প্রয়োজনীয়তা প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি আদেশ জারি করেন তাঁর নাকের ডগা থেকে আরম্ভ করে হাতের বুড়ো আঙুল পর্যন্ত মেপে যে দৈর্ঘ্য পাওয়া যাবে সেটাই হবে দৈর্ঘ্যের একক। এই এককের নাম দেওয়া ইয়ার্ড। বাংলায় গজ।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইংলণ্ডের রাণী এলিজাবেথ দৈর্ঘ্য মাপার একক ইয়ার্ডকে বাতিল করে দিয়ে বললেন এক নির্দিষ্ট রবিবারের উপাসনা শেষ করে যখন ইংলণ্ডবাসীরা গির্জা থেকে বেরিয়ে আসবেন তখন তাদের মধ্যে ১৬ জনকে এক সারিতে দাঁড় করানো হবে। এমনভাবে তাদের দাঁড় করানো হবে যাতে একজনের বাঁ পা তার সামনে দাঁড়ানো আরেকজনের বাঁ পা স্পর্শ করে। এভাবে যে দূরত্ব পাওয়া যায় তার নাম দেন রড। এই রডের সালে ভাগের এক ভাগ হল ফুট। তখন থেকে ফুটকেই দৈর্ঘ্যের একক বলে ধরা হতে লাগল।
রোমানরা আবার তাদের প্রধান খাদ্যশস্য যব নিয়ে পর পর তিনটি যব সাজিয়ে যে দূরত্ব পেয়েছিলেন তার নাম দিয়েছিলেন ইঞ্চি। প্রাচীন যুগে কাউকে ডাক দিলে যতটা দূর পর্যন্ত সেই ডাকের শব্দ পৌছাতে তাকে বলা হত ক্রোশ। আর ঘোড়াকে একবার গাড়িতে বেঁধে দেওয়ার পর সে যতটা পথ যেতে পারত ততটা দূরত্বকে বলা হত যোজন, কিন্তু এভাবে অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে দৈর্ঘ্যের একক নির্ণয় করা হলে বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। তাই পৃথিবীর সর্বত্র যাতে একই দৈর্ঘ্য মাপের একক ব্যবহার করা যায় তার জন্য ফরাসীদেশের বিজ্ঞানীরা ভাবনা চিন্তা শুরু করলেন। শেষপর্যন্ত ১৭৯৯ সালের ২২ জুন পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করার পর | সেই পরিধির এক চতুর্থাংশের এক কোটি ভাগের এক ভাগকে দৈর্ঘ্যের একক ধরা হল। এই এককের নাম দেওয়া হল মিটার। মিটার মাপের একটি প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম মিশ্রিত সংকর ধাতুর দণ্ড তৈরী করা হল। সেটি বর্তমানে লণ্ডন মিউজিয়ামে রাখা আছে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions