Home » » পেন্সিল আবিষ্কার হয় কিভাবে? এখনই জেনে নিন!

পেন্সিল আবিষ্কার হয় কিভাবে? এখনই জেনে নিন!

পেন্সিল আবিষ্কার হয় কিভাবে? এখনই জেনে নিন!

পেন্সিল কথাটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ পেনসিলিয়াম থেকে। প্রাচীন যুগে লেখার জন্য ব্যবহৃত হত একটি কাঠি, তার একধারে লাগানো থাকত পশুর লেজ বা লোমের অংশ। এই লেজকে বলা হত পেনসিলিয়াম।  প্রাচীন যুগে গ্রীক ও রোমানরা লিখবার জন্য লেড বা সীসা নামের একটি ধাতু ব্যবহার করতেন। কাগজের ওপর সীসা টানলে কালো রঙের দাগ পড়ত। খ্রীষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে কালো চকচকে নতুন এক ধরণের পদার্থ মানুষ খুঁজে পায় অরণ্য অঞ্চলের মাটির ভিতর থেকে। এই নতুন পদার্থটি দিয়েও কালো দাগ টানা যেত। তাই মানুষ এর নাম দেয় ব্ল্যাক লেড বা কালো সীসা। পরবর্তীকালে ১৭৮৯ সালে অবশ্য এই নতুন পদার্থটির পরিচয় জানা যায়। এটি কয়লারই এক রূপভেদ নাম গ্রাফাইট। এই গ্রাফাইট মাটির বাসনের ওপর চকচকে প্রলেপ দিতে, মরচে রোধের জন্য লোহার ওপর আস্তরণ দিতে, তাপ সহ্যকারী ধাতু গলানোর পাত্র তৈরীতে, তড়িৎ দ্বার হিসেবে কাজে লাগে।

১৪০০ সালে থেকে সীসার বদলে গ্রাফাইটকেই লেখার কাজে ব্যবহার শুরু হয়। চাহিদা কম থাকায় মানুষ তখন একটি আবরণ ছাড়া লম্বা গ্রাফাইট দণ্ড দিয়েই পেন্সিল হিসাবে কাজ চালাত। কিন্তু পরবর্তী কালে পেন্সিলের সংস্কার করার প্রয়োজন হল। 

গ্রাফাইটের মিহি গুঁড়োর সাথে সালফার বা গন্ধক মিশিয়ে সরু ও লম্বা শিষ প্রথম তৈরী করেছিলেন জার্মানীর নুরেনবার্গ অঞ্চলের একটি ব্যবসায়িক সংস্থা। এরপর ১৭৯৫ সালে নেপোলিয়ানের অনুরোধে ও আর্থিক সাহায্যে এক ফরাসী কারিগর নিকোলাস জ্যাক্স কেঁতে গ্রাফাইটের মিহি গুঁড়োর সাথে এক জাতীয় কাদা মিশিয়ে দণ্ড তৈরী করে তাকে শক্ত করার জন্য পুড়িয়ে নিয়ে তৈরী করলেন পেন্সিলের শিষ। এতে লেখার দাগ আরো কালো হল।। ভিয়েনার বিজ্ঞানী হার্টমুখ এই কাদা ও গ্রাফাইট গুঁড়োর পরিমাণ বাড়িয়ে কমিয়ে হার্ড পেন্সিল ও সক্ট পেন্সিল তৈরী করলেন।

১৮১২ সালে আমেরিকান কারিগর উইলিয়াম মনরো পেন্সিলের শিষ যাতে সহজে না ভেঙে যায় সেজন্য শিষকে আঠা দিয়ে কাঠের আবরণের সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এতে পেন্সিল যেমন সুদৃশ্য হল তেমনি আঁকা বা লেখার কাজও সহজ হয়েছিল।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->