Home » » ইমিউনিটি কি

ইমিউনিটি কি

ইমিউনিটি কি

ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা (immunity): আমাদের চারপাশে অসংখ্য রোগজীবাণু রয়েছে । জীবাণু, পরজীবী, ভাইরাস- এদের হামলা শরীরের উপর আসছে প্রতিনিয়ত। তাই প্রতিরোধের জন্য শরীরের ভিতরেও ব্যবস্থা আছে অর্থাৎ শরীরের ভিতর নিরন্তর বাইরের রোগ-জীবানুর সাথে যুদ্ধ চলছেই। হামলাকারী জীবাণু দেখতে খুবই ছোট। দেহরক্ষীরা নীরবে এই শত্রুদের ধ্বংস করে চলেছে। এই দেহরক্ষীরা শরীরে গড়ে তোলে ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা অর্থাৎ রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

রক্তে আছে শ্বেতকণিকা। শরীরের বাইরের রক্ষাব্যুহ ভেদ করে রোগজীবাণু যখন রক্তে প্রবেশ করে তখন শ্বেতকণিকারা ছুটে আসে, এদের ঘিরে ফেলে এবং ধ্বংস করে। শ্বেতকণিকার জন্ম অস্থিমজ্জায় । এরা হল গ্রাসককোষ এবং লসিকাকোষ । লসিকাকোষ দু' রকমের- ‘টি'-কোষ ও ‘বি’-কোষ। এদের কাজ হল অপরিচিত, আগন্তুক শত্রুদের চিহ্নিত করা ও ধ্বংস করা । গ্রাসককোষের কাজ হল রোগজীবাণু, ধূলি, ময়লা সব কিছু গিলে ফেলা। অপরিচিত শত্রুদের শরীরে যে চিহ্ন আছে তার নাম অ্যান্টিজেন'। টি-কোষ এই অ্যান্টিজেনকে চিনতে পারে এবং চিনে নিয়ে এদের ধ্বংস করে ফেলে। বি-কোষ তৈরি করে অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের গায়ে সাপটে যায় এবং শত্রুকে ধ্বংস করে। ফলে আমরাও রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাই। এমনি করে তৈরি প্রতিরোধব্যবস্থা তথা ইমিউনিটি (অনাক্রম্যতা) কখনো তাৎক্ষণিক, কখনো স্থায়ী হয়ে থাকে। যেমন হাম বা জলবসন্ত রোগে স্থায়ী ইমিউনিটি (অনাক্রম্যতা) তৈরি হয়।

আমাদের দেহরক্ষী সেনাদের (ইমিউনিটি) দিয়ে সব রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। তাই কৃত্রিমভাবে শরীরে ইমিউনিটি তৈরি করা হয়ে থাকে । এ জন্য আমরা ‘টিকা’নিই । টিকাতে থাকে নির্দিষ্ট ধরনের প্রয়োজনীয় জীবাণু বা ভাইরাস । তবে সে অণুজীব হয়ে থাকে মৃত অথবা দুর্বল যাতে এটি আমাদের শরীরে রোগ তৈরি করতে না পারে । টিকা দিয়ে আমাদের শরীরে তৈরি হয় অ্যান্টিবডি বা প্রতিরক্ষা-শক্তি। এরাই রোগ থেকে রক্ষা করে আমাদের। এ পর্যন্ত আমরা কয়েকটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকা পেয়েছি। যেমন- করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯), ডিফথেরিয়া, হুপিংকফ, টিটেনাস, পোলিও, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, মাম্পস্, জলাতঙ্ক, বসন্ত  ইত্যাদি।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->