মক্কা ও হারাম শরীফে প্রবেশের সুন্নাত ও আদব সমূহ:
জেদ্দার পথে মক্কা শরীফে আসতে গেলে মক্কা শরীফের প্রায় দশ মাইল দুরে হুদায়বিয়া নামক স্থান (বর্তমান নাম শুমাইসিয়া) অবস্থিত, সম্ভব হলে এখানে দুই রাকআত নামায পড়ে দুআ করুন। এখনই আপনি মক্কার সীমানায় অর্থাৎ, আল্লাহর দরবারের বিশেষ সীমানায় প্রবেশ করতে যাচ্ছেন; তাই অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সাথে তওবা ইস্তেগফার করতে করতে এবং তালবিয়া পড়তে পড়তে প্রবেশ করুন।
* মসজিদে হারামের উত্তর দিক অর্থাৎ, জান্নাতুল মুআল্লার দিক থেকে প্রবেশ করা মোস্তাহাব।
* মক্কা মুকাররমায় প্রবেশের পূর্বে গোসল করা মোস্তাহাব। তবে আজকাল গাড়ী ড্রাইভারগণ পথিমধ্যে সময় দেন না, তাই জেদ্দার থেকেই সম্ভব হলে এ গোসল সেরে নেয়া যেতে পারে।
* মক্কা মুকাররমায় এসে মাল-সামান বন্দোবস্ত করা ইত্যাদি জরূরী কাজ থাকলে তা সেরে যথা সম্ভব দ্রুত মসজিদে হারামে হাজির হওয়া মোস্তাহাব।
* মসজিদে হারামের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করা যায়, তবে বাবুস সালাম" নামক দরজা দিয়ে প্রবেশ করা মোস্তাহাব। এ দরজাটি সাফা মারওয়ার মাঝে অবস্থিত। প্রবেশের সময়, এমনিভাবে ভিতরে গিয়ে মসজিদে প্রবেশের ও মসজিদে অবস্থানের যে সুন্নাত ও আদব রয়েছে তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
* প্রবেশ করার সময় তালবিয়া পড়তে পড়তে আল্লাহর আজমত ও বড়ায়ী মনে জাগ্রত রেখে অত্যন্ত বিনয় ও খুশু খুযুর সাথে প্রবেশ করুন।
* প্রবেশের সময় কা'বা শরীফ প্রথমে নজরে আসলেই তখন দোয়া পড়ুন এরপর দাঁড়িয়ে বুক পর্যন্ত হাত তুলে আপনার আবেগ থেকে যে দু’আ আসে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করুন। এ মুহূর্ত দু'আ ককূল হওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত। এ মুহূর্তে এ দুআটি পড়াও মোস্তাহাব:
أعوذ برب البيت من الدين والفقر ومن ضيق الصدر وعذاب القبر -
অর্থাৎ, আমি এই গৃহের রবের কাছে পানাহ চাই ঋণী হওয়া, দরিদ্র হওয়া, মন | সংকুচিত হওয়া এবং কবরের আযাব থেকে।
* বায়তুল্লাহ (কাবা শরীফ) প্রথমে নজরে আসার সময় পারলে দোয়া পড়ুন।
* মসজিদে হারামে প্রবেশ করে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়তে হলে পড়ুন নতুবা তওয়াফ শুরু করুন। এখানে দুখুলুল মসজিদ (দুই রাকআত পড়া নিয়ম নয়। তবে তওয়াফ করতে গেলে ফরয নামায কাযা হওয়ার বা জামাআত ছুটে যাওয়ার বা মোস্তাহাব ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশংকা হলে তওয়াফের স্থলে দুই রাকআত দুখুলুল মসজিদ পড়ে নেয়া চাই, যদি মাকরূহ ওয়াক্ত না হয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions