টমাস রো কবে ভারতে আসেন
টমাস রো ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন
টমাস রো কার রাজসভায় এসেছিলেন
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজসভায়
স্যার টমাস রো কে ছিলেন:
টমাস রো ছিলেন একজন ইংরেজ রাজনীতিজ্ঞ। তিনি ইংলণ্ডের রাজা জেমসের দূত হিসাবে ১৬১৬ খৃষ্টাব্দে উপস্থিত হন সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজসভায় । তাঁহার কার্যে সন্তুষ্ট হইয়া ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীকে সুবিধাজনক শর্তে বাঙলা ও অন্যান্য স্থানে বাণিজ্য করিতে অনুমতি দেন।' টমাস রে ইংলন্ডের পক্ষ থেকে নানা উপঢৌকন নিয়ে উপস্থিত হন জাহাঙ্গীরের দরবারে। টমাস আনুগত্য , ভক্তি, প্রীতি আর অনুনয়ের যে অভিনয় করেছিলেন তাতে সফল হয়েছিলেন তিনি। উপঢৌকনের মধ্যে ছিল দামী দামী মণিমুক্তোর মালাসহ চিত্তাকর্ষক নানারকমের গহনা, কিছু মূল্যবান পাথর যেগুলো গহনা বা মুকুটে ব্যবহারের উপযুক্ত। সাধারণ দরিদ্র মৃত সৈনিকের বিধবা স্ত্রী নূরজাহান একনজরেই পছন্দ করে ফেলেছিলেন টমাসের বেশির ভাগ নৈবেদ্য। জাহাঙ্গীরকে পছন্দ করানোর মত উপহার ছিল বিলেতি সুরা আর নেচে গেয়ে মুগ্ধ করতে পারে এমন সঙ্গীতজ্ঞ বেশ কিছু বিদেশী অতি সুন্দরী যুবতী নারী। দিল্লির দরবার সেদিন ঠিক বুঝতে পারেনি ঐ সুন্দরীদের আসল পরিচয়। সুন্দরীদের প্রত্যেকেই ছিল জটিল রাজনীতিতে শিক্ষণপ্রাপ্ত, সচেতন ও স্বদেশ প্রেমিকা। সুতরাং চিত্তবিনোদন এবং স্মৃতির চরম ও পরম মুহূর্তে তারা নানা কায়দায় বাদশার হাতের পাঞ্জার ছাপ আদায় করতে অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের ইচ্ছামত সুবিধাগুলো অনুমোদন করিয়ে নিতে পেরেছিল সহজেই। জাহাঙ্গীরের পক্ষ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইচ্ছাধীন শর্তে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষতঃ অবিভক্ত বাংলায় বাণিজ্য করার অধিকার ইংরেজরা পেয়ে গিয়েছিল অনায়াসে। বাণিজ্য করার ও ‘কুঠি স্থাপন করার অধিকারের ভবিষ্যতে কী বিবর্তিত রূপ হবে তা টের পাননি মদ্যপ জাহাঙ্গীর ও তার পথপ্রদর্শক পরম পিতৃদেব ‘মহামতি’ আকবর। বাণিজ্যের কুঠি'ই পরিণত হয়েছিল রাজনীতির দুর্গে। টমাস রো’র মত একজন নেতাকে উপযুক্ত মর্যাদা দিতে বা তার শোষণের চক্রান্তের মূল্যায়নে তাকে ইংলণ্ড থেকে দেওয়া হয়েছিল ‘স্যার’ উপাধি।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions