এলুমিনিয়াম কি?
অ্যালুমিনিয়াম (aluminium):
নীলাভ সাদা ধাতু। প্রতীক AL, পারমাণবিক গুরুত্ব ২৬.৯৭। পারমাণবিক সংখ্যা ১৩। অ্যালুমিনিয়াম মৌলাবস্থায় প্রাকৃতিতে পাওয়া যায় না সত্য, কিন্তু এটির বহু রকমের যৌগ প্রকৃতিতে পাওয়া যায় । বস্তুত সমস্ত ধাতুর মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণই ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে | বেশি। এর অধিকাংশই মাটি-পাথরে সিলিকেট হিসাবে থাকে। এমারি (emery), অভ্র (mica), চিনেমাটি (kaslin), ক্রাইয়োলাইট (cryolite), আলট্রামেরিন (ultramarine), কোরান্ডাম (corundum) রূপে অ্যালুমিনিয়াম প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ।
বর্তমানে অবশ্য প্রচুর পরিমাণে অ্যালুমিনিয়াম তৈরি করা হয় এবং নানা কাজে ব্যবহৃত হয় । কিন্তু এর উৎপাদনপ্রণালী খুব বেশি দিনের নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ অ্যালুমিনিয়ামই সিলিকেট হিসাবে থাকে, কিন্তু এই সিলিকেট থেকে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করা খুবই কঠিন ও ব্যয়সাধ্য। ১৮৮৬ সালে চার্লস মার্টিন হল (Charles Martin Hall) নামে ২২ বছরের এক মার্কিন যুবক ও পল এরু (Paul Heroult) নামে এক ফরাসি রসায়নবিদ প্রায় একই সময়ে সস্তায় অ্যালুমিনিয়াম তৈরি করার এক তড়িৎবিশ্লেষণ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। বক্সাইট নামের আকরিক থেকে আমাদের প্রয়োজনের সমস্ত অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাশন করা হয়ে থাকে । শিল্পক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম প্রস্তুত করতে বক্সাইটের সঙ্গে ক্রাইয়োলাইট নামের অ্যালুমিনিয়ামের আরেকটি আকরিকও ব্যবহার করা হয়ে থাকে । | অ্যালুমিনিয়াম ধাতুটি দেখতে সাদা ও এতে সামান্য নীলাভ দ্যুতি আছে। একে পিটিয়ে পাত তৈরি করা যায় বা তারের আকার দেওয়া হয়। এর তাপ ও বিদ্যুৎ-পরিবহণ ক্ষমতা খুবই বেশি। আর্দ্র বাতাসে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর এর অক্সাইডের একটি পাতলা আবরণ পড়ে। এই অক্সাইডের জন্য ধাতুটির ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে এবং ভিতরের অ্যালুমিনিয়ামকে অক্সিজেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
অ্যালুমিনিয়াম ধাতুটি দেখতে সাদা ও এতে সামান্য নীলাভ দ্যুতি আছে। একে পিটিয়ে পাত তৈরি করা যায় বা তারের আকার দেওয়া হয়। এর তাপ ও বিদ্যুৎ-পরিবহণ ক্ষমতা খুবই বেশি। আর্দ্র বাতাসে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর এর অক্সাইডের একটি পাতলা আবরণ পড়ে। এই অক্সাইডের জন্য ধাতুটির ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে এবং ভিতরের অ্যালুমিনিয়ামকে অক্সিজেনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে । | লজেন্স, চকোলেট, চুয়িংগাম মুড়বার পাত থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ তৈরি করতেও অ্যালুমিনিয়াম দরকার হয়। ধাতুসঙ্কর তৈরি করতে অ্যালুমিনিয়ামের প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়। বাস, রিকশা, মোটরগাড়ি, এমনকি সামুদ্রিক জাহাজ, সেতু, সিড়ি ইত্যাদি তৈরি করতে অ্যালুমিনিয়ামের ধাতুসঙ্করগুলির প্রচুর ব্যবহার রয়েছে । অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্কর ধাতু ডার-অ্যালুমিনিয়াম | (duraluminium) দিয়ে মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি ও | বিমান নির্মাণ করা হয় । তাপ ও বিদ্যুৎপরিবাহী বলে বিদ্যুতের তার, রান্নার বাসনকোসন ইত্যাদি তৈরি করতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহারও প্রচুর। তিসির তেলের সঙ্গে | অ্যালুমিনিয়ামের গুঁড়ো মিশিয়ে যে বার্নিশ তৈরি করা হয় তা বেশ উজ্জ্বল এবং চকচকে। ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য লোহা ইত্যাদি ধাতুর ওপর এই রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। পালিশ করা অ্যালুমিনিয়াম দুরবিনের আয়নায় ব্যবহার করা হয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions