অসমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে?
ধাতুর সঙ্গে কাল নিরপেক্ষ-ইয়া (য়ে) , -ইতে (তে) অথবা -ইলে (লে) বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে অসমাপিকা বলে। যেমন – যত্ন করলে রত্ন মেলে। তাকে খুঁজে নিয়ে আসতে চেষ্টা করবে।
অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা
অসমাপিকা ক্রিয়া ঘটিত বাক্যে একাধিক প্রকার কর্তা (কর্তৃকারক) দেখা যায়-
১. এক কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক বা অভিন্ন হতে পারে। যথা – তুমি
চাকরি পেলে আর কি দেশে আসবে? ‘পেলে’ (অসমাপিকা ক্রিয়া) এবং “আসবে’ (সমাপিকা ক্রিয়া) উভয় ক্রিয়ার কর্তা এখানে তুমি'।
২. অসমান কর্তা : বাক্যস্থিত সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা এক না হলে সেখানে কর্তাগুলোকে অসমান কর্তা বলা হয়। যেমন-
ক) শর্তাধীন কর্তা : এ জাতীয় কর্তাদের ব্যবহার শর্তাধীন হতে পারে। উদাহরণ - তোমরা বাড়ি এলে আমি রওনা হব। এখানে এলে’ অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা ‘তোমরা’ এবং রওনা হব’ সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা ‘আমি'। তোমাদের বাড়ি আসার ওপর আমার রওনা হওয়া নির্ভরশীল বলে এ জাতীয় বাক্যে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার শর্তাধীন।
খ. নিরপেক্ষ কর্তা : শর্তাধীন না হয়েও সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপদ থাকতে পারে।
সেক্ষেত্রে প্রথম কর্তৃপদটিকে বলা হয় নিরপেক্ষ কর্তা। যেমন - সূর্য অস্তমিত হলে যাত্রীদল পথ চলা শুরু। করল। এখানে ‘যাত্রীদের পথ চলার সঙ্গে ‘সূর্য ” অস্তমিত হওয়ার কোনো শর্ত বা সম্পর্ক নেই বলে ‘সূর্য’ নিরপেক্ষ কর্তা।
অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:
১. ইলে’ ‘লে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার
ক. কার্যপরম্পরা বোঝাতে : চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে।
খ. প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে: একবার মরলে কি কেউ ফেরে?
গ. সম্ভাব্যতা অর্থে: এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।
ঘ. সাপেক্ষতা বোঝাতে: তিনি গেলে কাজ হবে।
ঙ. দার্শনিক সত্য প্রকাশে: ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে?
চ, বিধি নির্দেশে : এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।
ছ. সম্ভাবনার বিকল্পে: আজ গেলেও যা, কাল গেলেও তা।
জ. পরিণতি বোঝাতে: বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
২. ‘ইয়া’, ‘এ’ বিভক্তি যুক্তি অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার
ক. অনন্তরতা বা পর্যায় বোঝাতে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বস।
খ. হেতু অর্থে : ছেলেটি কুসঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে গেল।
গ. ক্রিয়া বিশেষণ অর্থে : চেঁচিয়ে কথা বলো না।
ঘ. ক্রিয়ার অবিচ্ছিন্নতা বোঝাতে: ‘হৃদয়ের কথা কহিয়া কহিয়া গাহিয়া গান।
ঙ. ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে সেখানে আর গিয়ে কাজ নেই।
চ. অব্যয় পদের অনুরূপ: ঢাকা গিয়ে বাড়ি যাব।
৩. ‘ইতে'>তে’ বিভক্তি যুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার:
ক. ইচ্ছা প্রকাশে: এখন আমি যেতে চাই।
খ. উদ্দেশ্য বা নিমিত্ত অর্থে : মেলা দেখতে ঢাকা যাব।
গ. সামর্থ্য বোঝাতে: খােকা এখন হাঁটতে পারে।
ঘ. বিধি বোঝাতে: বাল্যকালে বিদ্যাভ্যাস করতে হয়।
ঙ. দেখা বা জানা অর্থে: রমলা গাইতে জানে।।
চ. আবশ্যকতা বোঝাতে: এখন ট্রেন ধরতে হবে।
ছ. সূচনা বোঝাতে: রানি এখন ইংরেজি পড়তে শিখেছে।
জ. বিশেষণবাচকতায়: লোকটাকে দৌড়াতে দেখলাম।
ঝ. ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে : তোমাকে তো এ গ্রামে থাকতে দেখিনি।
ঞ. অনুসর্গরূপে: কোন দেশেতে তরুলতা সকল দেশের চাইতে শ্যামল।
ট. বিশেষ্যের সঙ্গে অন্বয় সাধনে : ‘দেখিতে বাসনা মাগো তোমার চরণ।
ঠ. বিশেষণের সঙ্গে অন্বয় সাধনে : পদ্মফুল দেখতে সুন্দর।
৪. ‘ইতে’, ‘তে’ বিভক্তি যুক্ত ক্রিয়ার দ্বিত্ব প্রয়োগ:
ক. নিরন্তরতা প্রকাশে: ‘কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা।
খ, সমকাল বোঝাতে: ‘সেঁউতিতে পদ দেবী রাখিতে রাখিতে। সেঁউতি হইল সোনা দেখিতে দেখিতে।
টীকা : রীতিসিদ্ধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমাপিকা ক্রিয়া অনুপস্থিত থেকে অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে বাক্য গঠিত হতে পারে। যেমন— গরু মেরে জুতা দান। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions