ইসিজি কাকে বলে?
ইসিজি / হৃদলেখচিত্র (ecg) : হৃৎপিণ্ড রক্ত সঞ্চালনের জন্য বিশেষভাবে গঠিত পাম্পবিশেষ। পাম্প চালানোর জন্য বৈদ্যুতিক শক্তি দরকার। হৃৎপিণ্ডের সঙ্কোচন প্রসারণও বিদ্যুৎশক্তিনির্ভর। প্রতিবার হৃদ্স্পন্দনের ফলে হৃৎপিণ্ডের মধ্যে যে বৈদ্যুতিক পরিবর্তন ঘটে তা শরীরের বাইরের যন্ত্রপাতির সাহায্যে রেখায়িত (রেখাবদ্ধ) করা যায়। সে জন্য বিশেষ ধরনের ছক-কাটা কাগজ বা গ্রাফ পেপার ব্যবহার করা হয় । ছক-কাটা কাগজের রেখাচিত্রকে বলা হয়। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (electrocardiogram) বা সংক্ষেপে ইসিজি। রেকর্ড করার যন্ত্রকে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ (electrocardiograph) এবং এই পদ্ধতিকে বলা হয় ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি।
হৃদস্পন্দনের সঙ্গে বিদ্যুৎপ্রবাহের সম্পর্ক প্রথম প্রমাণ করেন কলিকার (Kolliker) এবং মুলার (Muller) ১৮৫৬ সালে । আর হৃদ্স্পন্দনের ফলে সংঘটিত বৈদ্যুতিক পরিবর্তনের প্রথম নিখুঁত লেখচিত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয় ১৯০১ সালে । উইলিয়াম আইনথোভেন (W. Einthoven) একটি বিশেষ গ্যালভানোমিটারের সাহায্যে এই লেখচিত্র গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে সেটাই ইসিজি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। আজকাল নানা রকম স্বয়ংক্রিয় ইসিজি যন্ত্রও পাওয়া যায় ।
মৌলিক শারীরবৃত্তীয় এবং পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের ভিত্তিতে মানব হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক তরঙ্গের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে রোগনির্ণয় করা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের যে শাখায়, তাকে ক্লিনিক্যাল ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ বলা হয় ।
ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামের রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের ভিতরে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পরিবহণের গোলযোগ, হৃৎপ্রকোষ্ঠের অতিবৃদ্ধি, হৃৎপেশিতে রক্ত সরবরাহের ঘাটতিজনিত সমস্যা, হৃৎপেশির ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা সহজেই শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া হৃদস্পন্দনের কোনো প্রকার ছন্দপতনও সহজেই এর সাহায্যে নির্ণয় করা যায়। হৃদরোগের নির্ণয় ও চিকিৎসায় ইসিজির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions