বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
বক্সারের যুদ্ধ বাংলা তথা উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি সুদূরপ্রসারী ফল এনে দিয়েছিল। এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ অপেক্ষা অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।
১. এ যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে দিল্লির মোগল সম্রাট শাহ আলম ইংরেজদের পক্ষে যোগদান করেন।
২. অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখণ্ডে পালিয়ে গেলেন।
৩. মীর কাশিম আত্মগোপন করলেন। অবশেষে ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সন্নিকটে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
৪. এ যুদ্ধের ফলে মীর কাশিমের ইংরেজ বিতারণ ও স্বাধীনতা রক্ষার শেষ আশা-ভরসাটুকুও ধূলিসাৎ হয় এবং উপমহাদেশে ইংরেজ প্রভাব ও মর্যাদা বহুগুণে বেড়ে যায়।
৫. এ যুদ্ধের ফলে উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিনা বাধায় ইংরেজ আধিপত্য বিস্তারের পথ উন্মোচিত হয়।
৬. কোম্পানি অযোধ্যার নবাবের নিকট থেকে কারা ও এলাহাবাদ অঞ্চল দু'টি কেড়ে নেয়।
৭. এ যুদ্ধে কেবল মীর কাশিম পরাজিত হন নি; স্বয়ং সম্রাট শাহ আলম ও সুজাউদ্দৌলাও পরাজিত হয়েছিলেন। ফলে দিল্লি থেকে বাংলা পর্যন্ত সমগ্র উত্তর ভারত ইংরেজদের অধীনে চলে যায়।
৮. এ যুদ্ধের ফলে ক্লাইভ দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিওয়ানী (রাজস্ব আদায়ের কর্তৃত্ব) লাভ করেন। ফলে বাংলায় ইংরেজ অধিকার আইনত স্বীকৃত হয় ও কোম্পানি অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়।
৯. ঐতিহাসিক জেম্স স্টিফেন্স বলেন, “বৃটিশ শক্তির উৎপত্তি হিসেবে উপমহাদেশে পলাশির যুদ্ধ অপেক্ষা বক্সারের যুদ্ধ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ- মীর কাশিমের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার নবাবী আমল শেষ হয়ে যায় এবং পরবর্তী ঘটনাবলি ছিল ইংরেজ সাম্রাজ্যের বিস্তার ও সংগঠনের যুগ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions