Home » » শারীরিক সক্ষমতা কাকে বলে

শারীরিক সক্ষমতা কাকে বলে

শারীরিক সক্ষমতা কাকে বলে

কোনো কাজ করার সামর্থ্যকে সাধারণভাবে শারীরিক সক্ষমতা বলে। ব্যাপক অর্থে সক্ষমতা বলতে জৈবিক অস্তিত্ব রক্ষা করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনধারণ করার সামর্থ্যকে বোঝায়। ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আবেগময় ও সামাজিক দিকের সামর্থ্যও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই সক্ষমতাকে একটি সামগ্রিক ধারণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সক্ষমব্যক্তি শারীরিক সুস্থতার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতা, আবেগীয় ভারসাম্য ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন। 

শারীরিক সক্ষমতার এই সামগ্রিক ধারণা ব্যাখ্যা করার জন্য AAHPER (American Association of Health, Physical Education and Recreation) এর পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সক্ষমতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

ক) বংশগতি অনুযায়ী শারীরিক স্বাস্থ্য। 

খ) দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং বিপদকালীন অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি, দম, সমন্বয় ক্ষমতা ও কৌশল। 

গ) প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্মের প্রতি যথাযথ মনোযোগ ও মূল্যায়ন।। 

ঘ) আধুনিক জীবনযাত্রার জটিলতা থেকে চাপমুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবেগীয় সাম্য। 

ঙ) দলের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা এবং সমাজ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক চেতনা। 

চ) চলার পথে উদ্ভূত সমস্যাবলির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা। 

ছ) গণতান্ত্রিক দেশের দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য পালনের জন্য আবশ্যিক নৈতিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা। 

সুতরাং সক্ষমতা বলতে ব্যক্তির সার্বিক শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যকে বোঝানো হয়েছে। সামগ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বাস্তব, প্রয়োজনীয় এবং প্রাথমিক দিক হলো শারীরিক সক্ষমতা। শারীরিক সক্ষমতা হলো শারীরিক কাজকর্ম করার সামর্থ্য। দৈহিক কাজের ভিন্নতা অনুসারে শারীরিক সক্ষমতার স্বরূপ বদলায়। তাই সাধারণ জীবনের হাঁটা, চলা, বসা ও অন্যান্য কাজের জন্য শারীরিক সক্ষমতা এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের শারীরিক সক্ষমতা এক নয়। কাজের ধরনের উপর শারীরিক সক্ষমতার ধরনও ভিন্ন হয়। শারীরিক সক্ষমতার সংজ্ঞা হিসেবে ক্লার্ক বলেছেন- “অত্যধিক ক্লান্ত না হয়ে শক্তি ও সচেতনতার সাথে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করা, আনন্দ ও উৎসাহের সাথে অবসর সময় কাটানো এবং সংকট মোকাবেলার সামর্থ্য হলো শারীরিক সক্ষমতা।”

অনেকের মতে যন্ত্র নির্ভর আধুনিক জীবনের কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজন লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাওয়ায় শারীরিক সক্ষমতার উপরোক্ত সংজ্ঞা বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রযোজ্য নয়। শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজনীয় দিকগুলো হলো শারীরবৃত্তীয় অঙ্গ ও তন্ত্রসমূহের কার্যক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা, নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার সামর্থ্য ইত্যাদি। 

American Medical Association শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:

ক) সুষম খাদ্য 

খ) নিয়মিত ব্যায়াম ও পেশি ব্যবহৃত শারীরিক কাজ 

গ) প্রয়োজনীয় বিশ্রাম 

ঘ) সন্তোষজনক পেশা 

ঙ) আনন্দময় অবসর বিনোদনের উপায় 

চ) প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা


শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব 

একজন ব্যক্তি শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করলে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে। যেমন:

১। যেকোনো শারীরিক কার্যক্রম অনায়াসে করতে পারবে। 

২। দৈব-দুর্ঘটনা মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। 

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

৪। শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করলে মন ভালো থাকে, ফলে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারবে। 

৫। যেকোনো ধরনের খেলাধুলায় পারদর্শিতা অর্জন করতে পারবে ।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->