Home » » শারীরিক শিক্ষা কাকে বলে

শারীরিক শিক্ষা কাকে বলে

শারীরিক শিক্ষা কাকে বলে

প্রাচীনকালে শারীরিক শিক্ষা বলতে শুধুমাত্র দৈহিক বা শারীরিক উন্নতিকেই বোঝানো হতো। এ ধারণা সঠিক ছিল না।। দৈহিক বা শারীরিক উন্নতিকে শারীরিক শিক্ষা নয়, শরীরচর্চা বলে। মন ছাড়া শরীর এককভাবে কোনো কাজ করতে পারে না। অতএব, যে শিক্ষা দেহ ও মনের যুগপৎ পরিবর্তন সাধন করে সে শিক্ষাকেই শারীরিক শিক্ষা বলে। শারীরিক শিক্ষার ব্যবহারিক দিক হচ্ছে খেলাধুলা। শারীরিক শিক্ষা সাধারণ শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বস্তুত, মানুষ শারীরিক শিক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য অর্জন, সুন্দর মন ও পরিমিত আবেগ লাভ এবং সামাজিক কর্তব্য সচেতন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে থাকে।

সি.এ বুচার (C.A. Bucher) বলেছেন- ‘শারীরিক শিক্ষা হলো শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ, শারীরিক শিক্ষা সুনির্বাচিত শারীরিক কাজকর্মের মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক, আবেগিক এবং সামাজিক দিক দিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা। 

ডি.কে. ম্যাথস (D.K. Mathews) বলেছেন- ‘শারীরিক কার্যকলাপের দ্বারা অর্জিত শিক্ষাই শারীরিক শিক্ষা।

রেসিক ও সিডেল (Resick and seidel) বলেছেন- শারীরিক শিক্ষা হলো মানব গতিকার্যের বিজ্ঞান ও কলা।

জে.বি ন্যাশ (J.B. Nash) এর ভাষায়- ‘শারীরিক শিক্ষা গোটা শিক্ষার এমন এক দিক যা মাংসপেশির সঠিক সঞ্চালন ও এর প্রতিক্রিয়ার ফল হিসেবে ব্যক্তির দেহের ও স্বভাবের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধন করে।

শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্য কি

বিশেষজ্ঞের মতামত থেকে শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব। বিভিন্ন চিন্তাবিদদের মতামত বিবেচনা করে শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্যকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১। শারীরিক সুস্থতা অর্জন। 

২। মানসিক বিকাশ সাধন। 

৩। চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন। 

৪। সামাজিক গুণাবলি অর্জন। 


১। শারীরিক সুস্থতা অর্জন

ক. সুস্বাস্থ্য গঠনে আগ্রহী করে তোলা। 

খ. স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বয় সাধনমূলক কর্মকান্ড দ্বারা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা। 

গ. দেহ ও মনের সুষম উন্নতি সাধন করা। 

ঘ, কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে কাঙ্খিত ফল লাভ করা। 

ঙ. নিয়মকানুন মেনে ভালো করে খেলতে পারা। 

চ. শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা। 

ছ. দক্ষতার সাথে অঙ্গ সঞ্চালন ও নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশল রপ্ত করা ।


২। মানসিক বিকাশ সাধন

ক. পর্যবেক্ষণ ও বিচার ক্ষমতার উন্মেষ ঘটানো। 

খ. কল্পনা ও সৃজন শক্তির বিকাশ সাধন। 

গ. নীতি ও নৈতিকতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন। 

ঘ. সেবা ও আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হওয়া। 

ঙ. বিভিন্ন দলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করা।

চ. সহিষ্ণুতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করা। 


৩। চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন

ক. শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা। 

খ. আনুগত্যবোধ ও নৈতিকতা বৃদ্ধি পাওয়া। 

গ. খেলোয়াড়ি ও বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব গড়ে ওঠা। 

ঘ. জাতিয় ঐতিহ্য ও কৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধ জাগানো।

ঙ. খেলাধুলার মাধ্যমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। 

চ. আত্মসংযমী হওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা অর্জন করা।

ছ. প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মনোভাব গড়ে ওঠা। 


৪। সামাজিক গুণাবলি অর্জন

ক, খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্রাম ও আনন্দ উপভোগে উৎসাহিত করা। 

খ. নেতৃত্বদানের যোগ্যতা অর্জন করা। 

গ. সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা। 

ঘ. বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করা। 

ঙ. বিনোদনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবসর সময় কাটানোর উপায় জানা।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->