দ্বীন ই ইলাহী
দ্বীন-ই-ইলাহী : সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ। আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন। এখানে হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন ও তাদের নিজ নিজ ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতেন। আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত। আকবর নিজে ‘ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা “সুলহ-ই-কুল”। প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন। এর কতগুলো নিয়ম ও আচার পদ্ধতি ছিল। এই ধর্মের অনুসারীদের চারটি জিনিস যথা ধন, জীবন, সম্মান এবং ধর্ম উৎসর্গ করতে হত। স্বার্থসিদ্ধির জন্য অনেকে দ্বীন-ই-ইলাহীর প্রতি আকৃষ্ট হলেও এটি জনসাধারনের মাঝে জনপ্রিয় হতে পারেনি। হিন্দু রাজা বীরবলসহ মাত্র ১৮ জন ব্যক্তি এই ধর্মমত গ্রহণ করেছিল।
সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions