১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে একশ বছরের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ রাজ এ অঞ্চলের শাসন ভার স্বহস্তে তুলে নেয়। এ সময় ভারতবর্ষে ধাপে ধাপে ব্রিটেনের অনুকরণে আইন সভার উদ্ভব হয় । বস্তুত ১৮৫৮ সালের পরবর্তী বিভিন্ন ভারত শাসন আইনের মধ্যেমেই এ দেশে শাসনতান্ত্রিক বিকাশ ঘটে। এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের শাসনকার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করা। ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এ আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হল :
১. গভর্ণর জেনারেলের নির্বাহী পরিষদ ৫ জন সাধারণ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়।
২. আইন সভা গভর্ণর জেনারেলের নির্বাহী পরিষদের ৫ জন সাধারণ সদস্য ছাড়াও ন্যূনতম আরো ৬ জন এবং অনধিক ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। অতিরিক্ত সদস্যগণ গভর্ণর জেনারেল কর্তৃক দুই বছরের জন্য মনোনীত হন এবং এই সদস্যদের অর্ধেক বেসরকারি সদস্য।
৩. গভর্ণর জেনারেল নির্বাহী ও আইন উভয় পরিষদের সভাপতি।
৪. আইনসভা কর্তৃক পাসকৃত যে কোন বিলে সম্মতি প্রদান, ভেটো প্রদান বা ব্রিটিশ রাণীর জন্য সংরক্ষিত রাখার অধিকার গভর্ণর জেনারেলকে প্রদান করা হয়।
৫. গভর্ণর জেনারেলের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি ঋণ, সেনাবাহিনী, বৈদেশিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষযে কোন বিল আইন সভায় উত্থাপন করা যেত না।
৬. আইন সভার সদস্যগণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক উত্থাপিত কোন বিষযে অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দান করতে পারত। তবে কোনরূপ প্রশ্ন করার অধিকার ছিল না।
৭. এ আইন দ্বারা বোম্বে ও মাদ্রাজের প্রাদেশিক আইন সভা পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা হয়।
৮. এ আইন দ্বারা বাংলা, পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের জন্য নতুন আইন সভার বিধান করা হয়।
মূল্যায়ন
১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন ভারতের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নির্বাহী পরিষদ ও আইন সভা উভয় ক্ষেত্রে সরকারি সদস্যদের প্রাধান্য ছিল। বেসরকারি সদস্যদের মধ্যে রাজ অনুগত ভারতীয়দের মনোনীত করা হয়। গভর্ণর জেনারেল ও গভর্ণরের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বহাল ছিল। এতদ্সত্ত্বেও এ আইন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর ফরে ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল আইন সভার ভিত্তি রচিত হয়।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions