Home » » তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কবে হয়

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কবে হয়

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কবে হয়

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ হয় ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে : 

মুহম্মদ ঘোরি দমবার পাত্র ছিলেন না। তিনি তরাইনের প্রথম যুদ্ধে ব্যর্থ হলেও পর বৎসর অর্থাৎ ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্য নিয়ে আবার ভারত আক্রমণ করেন। এবারও পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে তরাইনের প্রান্তরে তাঁর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। দু'পক্ষেই বহু সৈন্য নিহত হয়। এবার পৃথ্বীরাজের বাহিনী পরাজিত হলে পৃথ্বীরাজ পলায়ন করেন। কিন্তু সরস্বতী নদীর তীরবর্তী সিরসুতী নামক স্থানে তিনি ধরা পড়লে তাঁকে হত্যা করা হয়। আজমীর পর্যন্ত মুসলমানদের দখলে আসে। 

উন্নত রণকৌশল এবং সৈন্য পরিচালনার দক্ষতায় ঘোরির সৈন্যবাহিনী রাজপুতদের নির্মমভাবে পরাজিত করে। অতঃপর বিশ্বস্ত অনুচর কুতুবউদ্দিন আইবককে বিজিত অঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে মুহম্মদ ঘোরি গজনীতে প্রত্যাবর্তন করেন। 

কুতুবউদ্দিন আইবক মুসলিম বিজয়কে আরও সম্প্রসারিত করে হাসী, মীরাট, দিল্লি ও কুইলী দখল করেন। জয়চাঁদের সাথে মোকাবেলার জন্য মুহম্মদ ঘোরি ১১৯৪ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় ভারতে আসেন । কুতুবউদ্দিন তাঁর সাথে যোগ দেন। কনৌজ মুহম্মদ ঘোরির দখলে আসে। তিনি আরও অগ্রসর হয়ে বারাণসী অধিকার করে গজনী ফিরে যান। তাঁর প্রতিনিধি কুতবউদ্দিন গোয়ালিয়র জয় করেন। এরপর কুতুবউদ্দিন ভীমকে পরাজিত করে ১১৯৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের রাজধানী আনহিলওয়ার দখল করেন। 

১২০২ খ্রিস্টাব্দে কালিঞ্জরও কুতুবউদ্দিনের অধিকারে আসে। মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ১২০২ খ্রিস্টাব্দে বিহার জয় করেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ঝাড়খণ্ড এর মধ্য দিয়ে বখতিয়ার খলজী সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া ও বঙ্গ পর্যন্ত মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান। 

১২০৩ খ্রিস্টাব্দে গিয়াসউদ্দিনের মৃত্যু হয়। তখন মুহম্মদ ঘোরি ঘোরের সিংহাসনে বসেন। সিংহাসনে আরোহণের সময় তিনি মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম উপাধি গ্রহণ করেন। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে জনৈক আততায়ীর হাতে তিনি নিহত হন।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->