যোগাযোগ কাকে বলে
মানুষ সামাজিক জীব। সংঘবদ্ধ মানব সমাজে মানুষকে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করতে হয় নানা প্রয়োজনে। সহজ কথায়, দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাব বিনিময় করাকেই যোগাযোগ বলে। চিত্র ১.১ থেকে সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। ব্যাপক অর্থে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভাব, তথ্য, ধারণা ও চিন্তা-ভাবনা আদান-প্রদান করাকেই যোগাযোগ বলা হয়। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য বা ভাবের আদান-প্রদান খুবই প্রয়োজন। অনেক সময় শুধুমাত্র টেলিফোন করা বা চিঠিপত্রের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করাকেই যোগাযোগ মনে করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, টেলিফোন, চিঠিপত্র ছাড়াও মুখোমুখি কথা বলা, ইমেইল, আবার আকার-ইঙ্গিত, ভাব-ভঙ্গি ইত্যাদির মাধ্যমেও যোগাযোগ করা হয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তথ্য, ধারণা ও চিন্তা-ভাবনার পারস্পরিক বিনিময় করার প্রক্রিয়াকে যোগাযোগ বলে।
Newman and Summer এর মতে, "Communication is an exchange of facts, ideas, opinions or emotions by two or more persons”. অর্থাৎ, যোগযোগ হলো দুই বা ততোধিক ব্যাক্তির মধ্যে কোনো ঘটনা, ধারণা, মতামত বা আবেগের বিনিময়।
Weihrich and Koontz এর মতে, "Communication is the transfer of information from a sender to a receiver, with the information being understood by the receiver”. অর্থাৎ, প্রাপকের বোধগম্যতা অনুযায়ী, তথ্য প্রেরকের নিকট হতে প্রাপকের নিকট তথ্যের স্থানান্তরকে যোগাযোগ বলে ।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে যোগাযোগের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়-
- যোগাযোগ একাধিক পক্ষের মধ্যে সংগঠিত হয়;
- যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ সংবাদ বা ভাবের আদান-প্রদান করা হয়; যোগাযোগ করার জন্য নির্দিষ্ট মাধ্যম ব্যবহার করা হয়;
- যোগাযোগে আদান-প্রদানকৃত তথ্য প্রাপকের কাছে বোধগম্য হতে হয়;
- যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া বলে প্রেরক ও প্রাপক মধ্যে ফলাবর্তন সংঘটিত হয়।
- অর্থাৎ, যোগাযোগ হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যাদি, ভাব, মতামত, আবেগ-অনুভূতি, সংবাদ, ঘটনা ইত্যাদির বিনিময় হয়।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions