Home » » এনেস্থেশিয়া কি

এনেস্থেশিয়া কি

এনেস্থেশিয়া কি

এনেস্থেসিয়া (anesthesia) বা অবেদন: শরীরের যে কোনো অংশে অনুভূতি লোপ বা অসাড়তা সৃষ্টির নাম অবেদন বা এনেস্থেসিয়া’ (anesthesia)। বেদনাহীন অস্ত্রোপচারের জন্য কৃত্রিম উপায়ে স্থানিক অসাড়তা বা সংজ্ঞহীনতা তৈরি বোঝাতেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

প্রাচীন কালে স্কুল উপায়ে এই কাজটি সম্পন্ন হত, যেমন সুরা বা ভেষজের সাহায্যে। ১৮৪৬ সালে মার্কিন দন্তচিকিৎসক গ্রিন মর্টন প্রথম দাঁত তোলার কাজে অবেদনিক (anesthetic) হিসাবে ইথার-বাষ্প ব্যবহার করেন। একই বছর জেম্স্ ওয়ারেন ইথার ব্যবহার করে রোগীর গ্রীবাদেশ থেকে একটি টিউমার অপসারণ করেন। এর পর ১৮৪৭ সালে জেম্স্ সিম্পসন নামক একজন স্কুলচিকিৎসক ইথারের পরিবর্তে ক্লোরোফর্ম ব্যবহার শুরু করেন। অস্ত্রোপচারে এর পর দীর্ঘদিন ইথার ও ক্লোরোফর্মের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে। এখন নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান অবেদনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।

এনেস্থেসিয়া মোটামুটি হিসাবে চার ধরনের। যেমন: সাধারণ অবেদন (জেনারেল এনেস্থেসিয়া), যে ক্ষেত্রে রোগীকে সংজ্ঞাহীন করা হয়; স্থানিক অবেদন, যে ক্ষেত্রে অবেদনিক ঔষধ সরাসরি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্দিষ্ট স্থানটিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় । কোনো কারণে রোগীকে সংজ্ঞাহীন করা যুক্তিযুক্ত না হলে মেরুদণ্ডের নালিতে (স্পাইনাল ক্যানাল’-এ) ঔষধ প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় অঙ্গে অসাড়তা সৃষ্টি করা হয় । এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘স্পাইনাল এনেস্থেসিয়া’ (মেরুদণ্ডীয় অবেদন)। মেরুরজ্জ্ব থেকে বেরিয়ে আসা নির্দিষ্ট স্নায়ুমূল বা স্নায়ুপথে অবেদনিক প্রয়োগ করে আঞ্চলিক অবেদন ('রিজিওনাল এনেস্থেসিয়া') সম্পন্ন করা যায়। এর ফলে এই নির্দিষ্ট স্নায়ু যেসব অঞ্চলে বিস্তৃত একমাত্র সেখানেই অসাড়তা সৃষ্টি হয়ে থাকে। | এক সময় স্থানীয় অবেদনিক হিসাবে কোকেন ব্যবহৃত হত, কিন্তু আসক্তির সম্ভাবনা থাকায় পরে কোকেনের বদলে প্রোকেন ব্যবহৃত হতে থাকে। প্রোকেন এবং এর পরিবর্তিত একাধিক রূপের ঔষধ স্থানিক, আঞ্চলিক ও মেরুদণ্ডীয় অবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয় । লিগনোকেন একটি বহুল ব্যবহৃত স্থানিক  অবেদনিক ঔষধ।

বর্তমানে সব ধরনের আবেদনের কাজেই উন্নত ধরনের ঔষধ এবং পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->