অভিযোজন কি
অভিযোজন (adaptation): এই পৃথিবীর প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীই নিজ নিজ পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকে ও বংশবিস্তার করে। পরিবেশের পরিবর্তনে প্রতিটি উদ্ভিদ এবং প্রাণীও নিজ নিজ স্বভাব ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যে নানা ধরনের পরিবর্তন সাধন করে নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। জীব তথা উদ্ভিদ ও প্রাণীর পক্ষে পরিবেশ অনুযায়ী এই ধরনের সামঞ্জম্য বিধানকেই অভিযোজন বলা হয় ।
অভিযোজন প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, কোনো জীবে অভিযোজনঘটিত বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হতে কয়েক পুরুষ বা বংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়। জীব সম্প্রদায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড় পদার্থের উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা আবার পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের হয়। এতে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর অভিযোজন ক্ষমতা ভিন্ন ধরনের। আবার উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পর কয়েক পুরুষ একই পরিবেশে বসবাসের ফলে নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। সে কারণেই ভিন্ন পরিবেশে। বসবাসরত একই প্রকার জীবের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। এ কারণেই বলা যায় যে, উত্তর মেরুর শ্বেত। ভালুক হিমশীতল পরিবেশে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বাদামি ভালুক উষ্ণ পরিবেশে বাস করলেও সম্ভবত লক্ষ বছর আগে একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। কিন্তু পরিবেশের প্রভাব তথা অভিযোজনের তাগিদে তারা ধীরে ধীরে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। এমন দুই পরিবেশের মধ্যে বিপুল পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ নিজ পরিবেশ থেকে খাদ্য আহরণ ও প্রজননে সাফল্য লাভ করেছে । তিমি একদা স্থলচর ছিল । কিন্তু দেহের বিপুল আয়তন এবং ওজনের জন্য তিমি সাগরের বুকে স্থান করে নেয়। এ জন্য তিমিকে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে অভিযোজিত হতে হয়েছে ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions