অভিস্রবণ কাকে বলে?
অভিস্রবণ (osmosis): অভিন্ন বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় একই দ্রাবক (পানি)-বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ (solution) পাশাপাশি অথচ একটি অর্ধভেদ্য ঝিল্লি দ্বারা আলাদা থাকলে দ্রাবক পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় বেশি ঘনত্বের (পানির পরিমাণ বেশি ও দ্রবণ কম) এলাকা থেকে এর কম ঘনত্বের (পানির পরিমাণ কম ও দ্রবণ বেশি) এলাকার দিকে ব্যাপ্ত হয়, সেই প্রক্রিয়ার নাম অভিস্রবণ । দু'টি দ্রবণ একই ঘনত্বের দ্রবণে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
উদ্ভিদের ক্ষেত্রে মূলের এককোষী মূলরোমগুলো মৃত্তিকার পানির সংস্পর্শে আসে। মূলরোমের ভ্যাকুওলের ভেতরের কোষরস মৃত্তিকার পানির চেয়ে বেশি গাঢ় । ফলে মৃত্তিকার লঘু দ্রবণ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলরোমে প্রবেশ করে।
অভিস্রবণ দুই প্রকার। যথা:
ক. অন্তঃঅভিস্রবণ (endosmosis): যে অভিস্রবণে দ্রাবক (পানি) বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে অন্তঃঅভিস্রবণ বলে ।
খ. বহিঃঅভিস্রবণ (exosmosis): যে অভিস্রবণে দ্রাবক (পানি) কোষের ভেতর থেকে এর বাইরে গমন করে তাকে বহিঃঅভিস্রবণ বলে।
অভিন্ন বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় একটি দ্রবণ ও এর বিশুদ্ধ দ্রাবককে যদি একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আলাদা রাখা হয়, তবে অর্ধভেদ্য ঝিল্লি ভেদ করে বিশুদ্ধ দ্রাবকের (পানির) বেশি ঘন দ্রবণে প্রবেশকে পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য বেশি ঘনত্বের দিক থেকে যে পরিমাণ চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত দ্রবণের অভিস্রবণিক চাপ (osmotic pressure) বলে । দুটি দ্রবণের ঘনত্বের মধ্যে যত বেশি পার্থক্য থাকবে অভিস্রবণিক চাপও তত বেশি হবে। পার্থক্য কম থাকলে চাপ কম হবে। ঘনত্ব সমান হলে কোনো অভিস্রবণ হবে না এবং কোনো চাপ থাকবে না ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions