অঙ্কুরোদগম কাকে বলে?
অঙ্কুরােদগম (germination) বীজের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা ভ্রণের জাগরণের ফলে চারাগাছের উৎপত্তি হয়। সুপ্তাবস্থার পরে জ্বণের চারাগাছে পরিণত হওয়াকে অঙ্কুরােদ্গম বলা হয় । তবে জ্বণের জাগরণ ও বৃদ্ধির জন্য কতকগুলি শর্ত থাকে। যেমন, পানি ছাড়া অঙ্কুরােদ্গম সম্ভব নয়। পানি বীজত্বককে নরম করে, প্রােটোপ্লাজমুকে উজ্জীবিত ও ক্রিয়াশীল করে, অক্সিজেন ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় সহজ করে, বীজপত্রে সঞ্চিত খাদ্য পানিতে দ্রবীভূত হয়ে জ্বণের বর্ধনশীল অংশে পৌছানােয় সাহায্য করে। পানি দ্বারা ফুলে ওঠা ও বর্ধনশীল জ্বণের চাপে বীজত্বক ফেটে যায় । অঙ্কুরােদ্গমের জন্য আরাে প্রয়ােজন অক্সিজেন, তাপ ও আলাে। অঙ্কুরােদ্গমের সময় কোষবিভাজন ঘটে। এতে ভ্রণের কলেবর বৃদ্ধি পায়। কোষবিভাজন ও নতুন কোষসমূহের বৃদ্ধির জন্য শক্তির প্রয়ােজন হয় । বীজে সঞ্চিত খাদ্য থেকে শক্তি সঞ্চার হয় সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সবাত শ্বসনের জন্য অক্সিজেনের প্রয়ােজন। উপযুক্ত তাপ না থাকলে জ্বণ সক্রিয় হয় না এবং জ্বণের বিপাকক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হয় না। ভিন্ন ভিন্ন বীজে অঙ্কুরােদ্গমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রার প্রয়ােজন হয় । অঙ্কুরােদ্গমের জন্য ন্যূনতম ৪° সে, | এবং ঊর্ধ্বে ৪৫° সে. তাপমাত্রার দরকার। বেশির ভাগ বীজের জন্য উক্তৃষ্ট তাপমাত্রা হল ২৫° সে. থেকে ৩০° সে.। সকল বীজের জন্য নয়, কতকগুলাে বীজ, যেমন তামাকের জন্য আলাের প্রয়ােজন হয়। আবার ধুতুরা উদ্গমের জন্য আঁধারেরও প্রয়ােজন দেখা যায়। এ ছাড়া অঙ্কুরােদ্গমে প্রভাব সৃষ্টি করে খাদ্য, রাসায়নিক দ্রব্য বা হরমােন, সুপ্তাবস্থা ও অঙ্কুরােদ্গমের ক্ষমতা। বীজে পর্যাপ্ত খাদ্য সঞ্চিত থাকা দরকার । অঙ্কুরােদ্গম নিয়ন্ত্রণ করে অক্সিন, জিবরালিন ও ডর্মিন নামক হরমােন । নির্দিষ্ট সুপ্তাবস্থা অতিক্রম না করলে অঙ্কুরােদ্গম হয় না। বীজের অঙ্কুরােদগমের ক্ষমতা নির্দিষ্ট সময়ের পর নষ্ট হয়ে যায় ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions