Home » » অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি কি

অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি কি

অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি কি

 অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি (endocrine glands):
দেহের যেসব কোষ বা যন্ত্র কোনো উপাদান নিঃসৃত করে তাকেই বলে গ্রন্থি । কোনো কোনো গ্রন্থি বহিঃস্রাবী, এদের নালি আছে, নিঃসৃত রস নালিপথে বেরিয়ে আসে আবার কোনো কোনো গ্রন্থি অন্তঃস্রাবী, এরা নালিহীন, এদের রস নিঃসৃত হয় সরাসরি রক্তে। অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি দেহের নানা কাজকর্মের রাসায়নিক নিয়ন্ত্রক। এই সব গ্রন্থি থেকে যে রস রক্তস্রোতে নিঃসৃত হয়ে শরীরে পৌছায় তাকে বলা হয় হরমোন’। দেহের ভেতর চলমান কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক হল অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি, যেমন- দেহের বৃদ্ধি, যৌন পরিপক্বতা, বংশবিস্তার ইত্যাদি। দেহে অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি মূলত ৭টি- পিটুইটারি, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, অগ্ন্যাশয়ের ল্যাঙ্গারহান্স কোষপুঞ্জ এবং স্ত্রী ও পুরুষ জননগ্রন্থি। খুলির ভেতর মস্তিষ্কের নিচে একটি বড় মটরের আকৃতির ‘পিটুইটারি' হল অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির পরিচালক । এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ৮টি হরমোন। দেহের বৃদ্ধি, স্তনের দুগ্ধক্ষরণ, দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা- এমনি অনেক কাজের কাজি এই গ্রন্থিটি। প্রতিটি অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এই ছোট্ট পিটুইটারি গ্রন্থি। প্রত্যেকের জন্য রয়েছে আলাদা। পরিচালক তথা নিয়ন্ত্রক হরমোন।

গলদেশের সামনে শ্বাসনালিকে ঘিরে রয়েছে প্রজাপতি-আকৃতি থাইরয়েড'। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন’ দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের বৃদ্ধি, ওজন, বুদ্ধির বিকাশ এমনি নেক কাজের জন্য প্রয়োজন এই হরমোন। ইরক্সিন তৈরিতে লাগে আয়োডিন। আয়োডিনের অভাব হলে গলগণ্ড রোগ হয়, মানুষ খর্বকায় ও বুদ্ধিহীন হয়ে যায় । থাইরয়েডের দুই পাশে ডুবে আছে গম-শস্যের কৃতির দুই জোড়া ‘প্যারাথাইরয়েড'। এর হরমোন পথহরমোন' অস্থি ও রক্তের মধ্যে ক্যালসিয়ামের বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করে। দু'টি কিডনির উপর অবস্থিত হলুদ-বাদামি রঙের মুকুটের আকৃতিবিশিষ্ট দু’টি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি। এর হরমোন অ্যাড্রেনালিন শরীরকে আপদ-বিপদ, চাপ মোকাবিলায় সাহায্য করে। এ ছাড়া এই গ্রন্থি থেকে আসে স্টেরোয়েড হরমোন । এই হরমোন দেহের পানি ও লবণের সমতা রক্ষা করে, খাদ্যের বিপাকে সাহায্য করে, রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধব্যবস্থায় সহায়তা করে।

পাকস্থলীর নিচে ও পেছনে রয়েছে অগ্ন্যাশয়। এতে আছে বিশেষ ধরনের কোষপুঞ্জ, নাম ল্যাঙ্গারহান্স কোষ । এ থেকে নিঃসৃত হয় হরমোন ইনসুলিন ও গুকাগন । এরা দেহের শর্করামান বজায় রাখে। ইনসুলিনের অভাব হলে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ দেখা দেয় । নারীর তলপেটের দু'দিকে আছে স্ত্রী জননগ্রন্থি দু’টি ডিম্বাশয় । এর হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন নারীর যৌনচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। পুরুষের জননগ্রন্থি শুক্রাশয়দ্বয়-এর হরমোন টেস্টোস্টেরোন পুরুষের যৌনচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, দেহের প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->