অস্ট্রালোপিথেকাস কি
অস্ট্রালোপিথেকাস (australopithecus):বহু নৃবিজ্ঞানী মনে করেন যে অস্ট্রালোপিথেকাস হল মানব জাতীয় জীবের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। এরা আফ্রিকায় বসবাস করত। চল্লিশ থেকে দশ লক্ষ বছর আগে এরা জীবিত ছিল। অস্ট্রালোপিথেকাস শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ অস্ট্রালিস (অর্থ ‘দক্ষিণ) এবং গ্রিক শব্দ পিথেকাস (অর্থ ‘এ’) থেকে। এদেরকেই প্রথম হোমিনিড বলা হয়। হোমিনিড বলতে প্রাগৈতিহাসিক মানবসদৃশ জীবদের বোঝায় ।
অনেকে চার ধরনের অস্ট্রালোপিথেকাসের অস্তিত্ব চিহ্নিত করেন। যথা:
১. অস্ট্রালোপিথেকাস আফারেনসিস (afarensis)- চল্লিশ লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকার অধিবাসী ছিল এরা।
২. অস্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস (africanus)- পঁচিশ লক্ষ বছর আগে এরা দক্ষিণ আফ্রিকায় জীবিত ছিল।
৩. অস্ট্রালোপিথেকাস বোইসেই (boisei)- পঁচিশ লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় এদের দেখা যেত।
৪. অস্ট্রালোপিথেকাস রোবাস্টাস (robustus)- বিশ লক্ষ বছর আগে ওরা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস করত।
অস্ট্রালোপিথেকাস সোজা হয়ে দাঁড়াতে এবং দু’ পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারত। এরা ছিল চার থেকে পাঁচ ফুট (১২০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার) দীর্ঘ । আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের তিন ভাগের এক ভাগ ছিল এদের মস্তকের পরিমাপ। বহু নৃবিজ্ঞানী মনে করেন, ক্ষুদ্র অস্ট্রালোপিথেকাস থেকেই মানুষের উদ্ভব হয়েছে।
১৯২৪ সালে এদের ফসিল বা জীবাশ্ম প্রথম পাওয়া যায় । অস্ট্রেলীয় নৃতত্ত্ববিদ রেমন্ড আর্থার ডার্ট (Raymond Arthur Dart) একটি শিশুর মাথার খুলি দক্ষিণ আফ্রিকায় পান। তিনি একে হোমিনিডভুক্ত জীব বলে মনে করেন, কিন্তু অনেকে আবার একে অবলুপ্ত ‘এ’-এর শেষ চিহ্ন বলে মনে করেন। প্রাপ্ত বিভিন্ন ফসিল থেকে এদের বর্তমানে হোমিনিড (hominid) বলেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ইথিওপিয়া, তানজানিয়া ইত্যাদি অঞ্চলেও এদের ফসিল পাওয়া গেছে। এসব ফসিল দেখে মনে হয় মানবসদৃশ এই সব জীব মানুষ কর্তৃক অস্ত্র তৈরির আরো বহু আগে থেকেই, প্রায় বিশ লক্ষ বছর আগেই, সোজা খাড়াভাবে হাঁটতে পারত।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions