জীবনী সাহিত্য ও বৈষ্ণব পদাবলী
প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেবের পরিচয় দিন।
উত্তর: ১৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ১৪৮৬ সালে শ্রীচৈতন্যদেব নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জগন্নাথ মিশ্র এবং মায়ের নাম শচীদেবী। শ্রীচৈতন্য দেবের বাল্য নাম ছিল নিমাই। তাঁর গায়ের বর্ণ গোরা ছিল বলে তিনি গৌরাঙ্গ নামেও পরিচিত। তার পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর। ১৫৩৩ সালে তিনি পুরিতে মারা যান।
প্রশ্ন: কোন মহাপুরুষ মধ্যযুগে একটি পদ রচনা না করেও অমর হয়ে। আছেন এবং তার জীবনকে নিয়ে যুগের সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব। ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনভিত্তিক যুগবিভাগ করেছেন।
ক. প্রথম পর্ব: প্রাকচৈতন্য যুগ-চতুর্দশ শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী।
খ. দ্বিতীয় পর্ব: চৈতন্য যুগ-ষােড়শ শতাব্দী
গ. তৃতীয় পর্ব: উত্তর চৈতন্যযুগ-সপ্তদশ শতাব্দী এবং
ঘ. চতুর্থ পর্ব: অষ্টাদশ শতাব্দী।
প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: বৃন্দাবন দাস রচিত চৈতন্য ভাগবত' ।
প্রশ্ন: চৈতন্যদেবের উপর রচিত সবাপেক্ষা তথ্যৰণ্ডল জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্য চরিতামৃত'।
প্রশ্ন: 'ষড় গোস্বামী কারা?
উত্তর: চৈতন্যদেবের ছয়জন প্রধান শিষ্যকে ‘ষড়গোস্বামী বলা হয়।
প্রশ্ন: ব্রজবুলী কী?
উত্তর: ব্রজবুলি বলতে সাধারণভাবে বোঝায় ব্রজের বুলি অর্থাৎ ব্রজ অঞ্চলের ভাষা। ব্রজবুলি মূলত এক প্রকার কৃত্রিম মিশ্রভাষা। অর্থাৎ মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হলো ব্রজবুলি ভাষা। ধারণা করা হয় বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণ সম্ভবত এ ভাষাতেই কথা বলতেন। প্রকৃতপক্ষে মৈথিলি কবি বিদ্যাপতির পদের ভাব ও ভাষার অনুসরণে বাংলা, উড়িষ্যা ও আসামে পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ব্রজবুলি ভাষার সৃষ্টি হয়। মৈথিলি ভাষার ক্রমরূপান্তর হিসাবে ব্রজবুলি ভাষার বিকাশ। ব্রজবুলি কখনও মুখের ভাষা ছিলনা। সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহার ছিলনা। এই জন্য এভাষাকে কবি ভাষাও বলা হয়।
প্রশ্ন: বিদ্যাপতি কে? উত্তর: বৈষ্ণব পদাবলীর অন্যতম কবি হলেন বিদ্যাপতি। তিনি মিথিলার সীতামার মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা কবিতা রচনা না করেও বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়।
প্রশ্ন: বিদ্যাপতির রচিত উল্লেখযোগ্য পদ কোনটি?
উত্তর: এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর ।। এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শণমন্দির মোর ॥
প্রশ্ন: বিদ্যাপতির উপাধিগুলো কী কী?
উত্তর: তার অনেক গুলো উপাধি ছিল। যেমন- মৈথিল কোকিল, অভিনব জয়দেব, নব কবি শেখর, কবিরঞ্জন, কবি কণ্ঠহার, পণ্ডিতঠাকুরম, সাধুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিতপ্রভৃতি।
প্রশ্ন: বৈষ্ণবপদাবলীর উল্লেখযোগ্য কবি কারা?
উত্তর: চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরামদাস, লোচনদাস। মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আফজাল, শেখ ফয়জুলাহ, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলী রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান, নওয়াজিস প্রমুখ।
প্রশ্ন: আধুনিক কোন কবি বৈষ্ণব পদাবলী লিখেছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' নামে বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেন।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions