মঙ্গলকাব্য কাকে বলে
প্রশ্ন: মঙ্গল কাব্য কী?
উত্তর: 'মঙ্গল' শব্দের অর্থ হল শুভ বা কল্যাণ। বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্ম বিষয়ক আখ্যানকাব্য রচিত হয়, তাই মঙ্গল কাব্য হিসাবে পরিচিত।
প্রশ্ন: কাব্যের নাম মঙ্গল কাব্য হবার কারণ কী?
উত্তর: লৌকিক ধারণা মতে যে কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে পাঠক এবং শ্রোতার অশেষ কল্যাণ সাধন হয় এবং সর্ববিধ অকল্যাণ নাশ হয়। তাকে বলা হয় মঙ্গল কাব্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এ কাব্যের পাঠ এক মঙ্গলবারে শুরু হয়ে অন্য মঙ্গলবার সমাপ্ত হত বলে এ কাব্যের নাম মঙ্গল কাব্য বা অষ্টমঙ্গলা।
প্রশ্ন: মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ৩টি। যথা-
১. মনসামঙ্গল
২. চণ্ডীমঙ্গল ও
৩. অন্নদামঙ্গল
এছাড়া ধর্মমঙ্গল নামে মঙ্গল কাব্যের আরও একটি শাখা রয়েছে।
প্রশ্ন: মঙ্গলকাব্যে প্রধানত কয়টি অংশ থাকে?
উত্তর: পাঁচটি। যথা:
১. বন্দনা
২. আত্মপরিচয়
৩. দেবখণ্ড বা অলৌকিক বিষয়ে অবতারণা
৪. মর্তখ- বা মূলকাহিনী
৫. ফলশ্রুতি।
প্রশ্ন: মঙ্গলকাব্য কত প্রকার?
উত্তর: মঙ্গলকাব্য প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১. পৌরণিক মঙ্গলকাব্য ও
২. লৌকিক মঙ্গলকাব্য ।
প্রশ্ন: কতকগুলো পৌরণিক মঙ্গলকাব্যের নাম উল্লেখ করুন।
উত্তর:
১. গৌরীমঙ্গল
২. ভবানীমঙ্গল
৩. দুর্গামঙ্গল
৪. অন্নদামঙ্গল
৫. কমলামঙ্গল
৬. গঙ্গামঙ্গল ও
৭. চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
প্রশ্ন: কতকগুলো লৌকিক মঙ্গলকাব্যের নাম লিখুন।
উত্তর:
১.শিবমঙ্গল
২. কালিকামঙ্গল
৩. শীতলামঙ্গল
৪. সরদামঙ্গল
৫. সূর্যমঙ্গল
৬. ষষ্ঠীমঙ্গল, ও
৭. রায়মঙ্গল ইত্যাদি।
প্রশ্ন: মঙ্গলকাব্যে উল্লেখিত প্রধান দেবদেবীর কারা?
উত্তর: ১. দেবী মনসা
২. দেবী চণ্ডী
৩. দেবতা শীব
৪. ধর্ম ঠাকুর
৫. দেবী অন্নপূর্ণা প্রভৃতি।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions