অণুজীব বিদ্যা কাকে বলে
অণুজীববিদ্যা (microbiology): অণুজীববিদ্যা শব্দটি ইংরেজি মাইক্রোবায়োলজি (microbiology)-এর বাংলা প্রতিশব্দ । অণুজীববিদ্যার অর্থ হলো অণুবীক্ষণেই দেখা যায় এমন অতি ক্ষুদ্র জীবের পরিচয়, ক্রিয়াকলাপ ও অন্যান্য চরিত্র সম্পর্কে অনুশীলন ও জ্ঞান অর্জন। মানবদেহে অণুজীবসৃষ্ট রোগের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অণুজীববিদ্যার চর্চা গুরুত্ত্বপূর্ণ। মাইক্রোবায়োলজি’ শব্দটি যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রথম ব্যবহার করেন খ্যাতনামা ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর, তবু অণুবীক্ষণে অণুজীবের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন হল্যান্ডবাসী অণুবীক্ষণবিদ আন্টোন ভান লিউয়েনহুক ১৬৭৫ সালে। এর দীর্ঘকাল পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই শাখাটির তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক ভিত্তি তৈরি হয় লুই পাস্তুর, রবার্ট কক প্রমুখ গবেষকের হাতে। ক্ষুদ্রতম প্রাণী প্রোটোজোয়া, ছত্রাক, খমির ও অন্যান্য পরজীবী এবং জীবাণু ও ভাইরাস নিয়ে অণুজীববিদ্যা চর্চা করা হয় । সেই সঙ্গে সংক্রমণের কারণ, পদ্ধতি, মারীতত্ত্ব (epidemiology), গবেষণাগারে রোগনির্ণয়, অনাক্রম্যতা (imuniology) ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ের চর্চাও অণুজীববিদ্যার অন্তর্গত।
বর্তমানে অণুজীববিদ্যার একাধিক শাখা রয়েছে । যেমন জীবাণুর ইতিহাস, বংশবিস্তার, ক্রিয়াকলাপ, রোগ উৎপাদনক্ষমতা, রোগের নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চর্চার জন্য হয়েছে জীবাণুবিদ্যা (bacteriology); একইভাবে ভাইরাস গবেষণার জন্য ভাইরাসবিদ্যা। (virology), পরজীবী ও ছত্রাক বিষয়ের জন্য যথাক্রমে প্যারাসাইটোলজি (parasitology) ও মাইকোলজি (mycology)। সম্প্রতি অনাক্রম্যতার নানা দিক নিয়ে কাজ (অনাক্রম্যতত্ত্ব বা ইমিউনোলজি) এবং অণুজীবের জীনতত্ত্ব (জেনেটিক্স) নিয়ে গবেষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে ১৯৩৪ সালে অতি শক্তিশালী ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র আবিষ্কার অণুজীব গবেষণা, বিশেষ করে ভাইরাস গবেষণাকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। সম্ভব হচ্ছে জীন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা, যা নানাভাবে মানবকল্যাণে নিয়োজিত।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions