পিপল গাছ
অশ্বথ বা পিপ্পল (peepul): ডুমুর জাতীয় বৃক্ষের মধ্যে অশ্বথ দ্বিতীয় বৃহত্তম । বট এই পরিবারের বৃক্ষগুলির মধ্যে সর্ববৃহৎ । প্রথম অবস্থায় এই গাছ প্রায়ই অন্য গাছে, ভাঙা দেয়ালে, কার্নিশে, ভাঙা দেউলে জন্মায়। পাখির বিষ্ঠার সঙ্গে বীজ ছড়ায় বলে | এভাবে জন্মাতে পারে । অশ্বথ ও বটের দড়ির মতো শেকড় ক্রমে বড় হয়ে আশ্রয়দানকারী গাছ বা দেয়ালকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে । তাই ভাঙা দেউলে বা দেয়ালে এই গাছ সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। অশ্বথকে (উচ্চারণ অশথুথো) পিপল বা পিপ্পলও বলে। চলতি বাংলায় আমরা অশ্বথকে সর্বদা ‘অশথ’ বলে থাকি । | ছায়াতরু হিসাবে অশ্বত্থ রাস্তার ধারে রোপণ করা
হয় । এই গোত্রের আর একটি গাছ পাকুড়, দেখতে | অনেকটা অশ্বথের মতোই। অশ্বথের বৈজ্ঞানিক নাম ফিকাস রিলিজিওসা (Ficus religiosa Linn), গোত্র মোরাসি (Moraceae)। এই ধরনের আর একটি গাছ হল নন্দীবৃক্ষ বা গয়া অশ্বথ । এর বৈজ্ঞানিক নাম ফিকাস | রামফি রুম (Ficus rumphii Blume)। সারা পৃথিবীতে এই পরিবারের ৬০০ প্রজাতি (species) আছে, বাংলাদেশ-ভারতে আছে ১২টি প্রজাতি।
ফাল্গুন-চৈত্র মাসে অশ্বথের পাতা ঝরে যায়। এ সময় এবং কখনো কখনো একটু পরে ফুল আসে। চৈত্র-বৈশাখে নতুন তামাটে পাতায় গাছ ভরে যায় । কৃচিৎ দু'-একটি গাছে সবুজ রঙের পাতা আসে। এই গাছের পাতার আগা হঠাৎ সুচালো হয়ে দীর্ঘ হয় । অশ্বথের পাতা দেখতে হৃৎপিণ্ডের মতো। বোঁটা দীর্ঘ বলে হাওয়ায় পতপত শব্দ করে । এই বৈশিষ্ট্য অনন্য। কিছু দিনের মধ্যেই পাতার তামাটে রঙ কচি সবুজ ও পরে ঘন সবুজে পরিণত হয়। এ জন্য একে বলে তাম্রপত্রী গাছ এবং এ থেকে সাদা ক্ষীর বের হওয়ার জন্য একে বলে ক্ষীরীবৃক্ষ। এই কষ বা ক্ষীর নানা রোগের ঔষধ । বর্ষার মধ্যে ফল পাকে। অশ্বথের ফল পাখিদের প্রিয় । অশ্বথের পাতা, ছাল, শেকড়, ক্ষীর নানা রোগের মহৌষধ।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions