এনজিওপ্লাস্টি কি?
অ্যানজিওপ্লাস্টি (angioplasty): শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো হৃৎপিণ্ডেরও দরকার অক্সিজেন এবং আরো নানা রকম পুষ্টি উপাদান। করোনারি ধমনির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড রক্ত সরবরাহ পায়। করোনারি ধমনির ভেতরের আয়তন কোনো কারণে সরু কিংবা তা বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহ ব্যাহত বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হৃদ্রোগ সৃষ্টি হয়। সাধারণত কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য স্নেহজাতীয় পদার্থ স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে করোনারি ধমনির ভেতরটা সরু হয়ে যায় । একে 'অথেরোফ্লেরোসিস’ (ধমনিস্তবতা বা ধমনি কঠিন) বলে । বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্টি' নামক প্রক্রিয়ার ধনে করোনারি ধমনির অভ্যন্তরস্থ সরু হয়ে যাওয়া তক চপ দিয়ে বড় করে দেওয়া হয়। এর ফলে ত র ধমনি দিয়ে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত হয়।
‘বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্টি’র জন্য হাত কিংবা পায়ের কোনো ধমনির অ্যানজিওপ্লাস্টির মধ্য দিয়ে লম্বা সরু একটি প্লাস্টিকের নল মহাধমনি পথে করোনারি ধমনিতে প্রবেশ করানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ফুরোস্কোপ নামের | এক বিশেষ ধরনের এক্স-রে-টিভি ক্যামেরার সাহায্যে | পর্যবেক্ষণ করা হয় । ঐ নলের মধ্য দিয়েই আরো সরু একটি প্লাস্টিকের নল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় নলের | মাথায় একটি ছোট চুপসানো বেলুন লাগানো থাকে। | বেলুনটি করোনারি ধমনির নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছানোর পরে ফোলানো হয়। বেলুনের চাপের ফলে সরু হয়ে যাওয়া অংশ প্রশস্ত হয়ে যায়। এর পর নল দু’টিকে ধীরে ধীরে বের করে নেওয়া হয়। বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্টি জনপ্রিয় হলেও এক শ’ভাগ কার্যকরী নয় । কারণ অনেক ক্ষেত্রে করোনারি ধমনির বড় করে দেওয়া অংশ আবার সরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন আবার একইভাবে অ্যানজিওপ্লাস্টি করতে হতে পারে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions