ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM)
ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যমাত্রায় নিক্ষেপের এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র । ইংরেজিতে এর নাম Intercontinental Ballistic Missile বা সংক্ষেপে ICBM । হাইড্রোজেন বোমা আবিষ্কারের সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন ও উন্নয়নের বিকাশের অনেক সম্পর্ক রয়েছে। একে হাইড্রোজেন বোমা আবিষ্কারের প্রত্যক্ষ ফল বলা যেতে পারে। হাইড্রোজেন বোমা আবিষ্কারের পর আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয় । এই ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেক গবেষণা চালায়। এসব গবেষণার ফলাফল তারা তাদের মহাকাশ অভিযানের কাজে লাগায়। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা প্রচুর ও ভয়াবহ। পৃথিবীর যে কোনো শহরকে ধ্বংস করার ক্ষমতা পশ্চিমী দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্রের রয়েছে। পৃথিবীর যে কোনো স্থানের যে | কোনো লক্ষ্যে এটি নিক্ষেপ করা যায়। এদের রেঞ্জ বা পাল্লা বিশ্বব্যাপী। আবার কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা। সীমাবদ্ধ। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত কোনো না কোনো যুদ্ধাস্ত্র বহন করে থাকে। যাতে রেডার (দ্র) বা অন্য কোনো যন্ত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি ধরা না পড়ে সে জন্য এরা ওড়ে খুব নিচু দিয়ে। ক্ষেপণাস্ত্র কখনো আকাশ থেকে আকাশে, বিমান থেকে | শত্রুবিমানে, ভূমি থেকে আকাশে, আকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠে নিক্ষিপ্ত হয়। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুবিমান বা অন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয় । আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র। আমেরিকা ‘পোলারিস' নামে এক | শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কার করেছে, যা জাহাজ থেকে | সমুদ্রতীরে নিক্ষেপ করা যায়। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র স্কাড ও প্যাট্রিয়ট নিক্ষেপ করা হয়েছিল । এই যুদ্ধ হয়েছিল ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions