জনসমষ্টি কাকে বলে
জনসমষ্টি (Population): রাষ্ট্রের প্রথম উপাদান হলো জনসমষ্টি, কারণ জনসমষ্টির ইচ্ছা প্রণোদিত পারস্পরিক সম্বন্ধ থেকে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে। কাজেই জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্রের ধারণা করা অসম্ভব। পণ্ডদল কর্তৃক রাষ্ট্র গঠিত হয় না। আবার জনশূন্য দেশও রাষ্ট্র হয় না। কিন্তু একটি রাষ্ট্রে কীরূপ লোকসংখ্যা হওয়া উচিত, এই প্রশ্ন নিয়ে প্রাচীন পণ্ডিতেরা অনেক তর্কবিতর্ক করেছেন। মহাপণ্ডিত প্লেটোর মতে রাষ্ট্রের জনসংখ্যা হাজার পাঁচেক হওয়া উচিত। তার শিষ্য এরিস্টটল বলেন, “জনসংখ্যা দশ হাজার হলে ভাল হয়, তবে তা কোন ক্রমেই এক লক্ষের উর্ধ্বে যেন না হয়।” ফরাসী পণ্ডিত রুশোও এরিস্টটলের সাথে সুর মিলিয়েছেন। মতেঁস্কু এবং ডি-টকভিলও (De Toqueville) রাষ্ট্রের জনসংখ্যা কম রাখার পক্ষপাতী। তবে গ্রীক পণ্ডিতগণ রাষ্ট্র বলতে নগর বুঝতেন। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের উপযোগী জনসংখ্যা তারা পছন্দ করতেন। ফলে শেষ লক্ষ্য তাদের ছিল হাজার দশেকের মধ্যে। কিন্তু এ যুগে বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির ফলেই হোক আর পরোক্ষ গণতন্ত্রের প্রয়োজনেই হোক- উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে এবং খবরাখবর অতি দ্রুত দেয়া-নেয়া সম্ভবপর বলে দশ হাজার বা দশ লক্ষ যে কোন রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে অতি নগণ্য। তাছাড়া, রাষ্ট্রের জনসংখ্যার সীমা বেঁধে দেবার সার্থকতা এই যুগে আর স্বীকৃত হয় না। চীন, ভারতবর্ষ, রাশিয়া ও আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র এখন পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা জনবহুল রাষ্ট্র। বর্তমানে চীনের জনসংখ্যা একশত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দুটি রাষ্ট্র স্যান মেরিনো ও নোনাকো। তাদের জনসংখ্যা যথাক্রমে বিশ হাজার ও চৌদ্দ হাজার। নেহায়েত ঐতিহাসিক কারণেই আজও সে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো টিকে রয়েছে। তবে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার রাষ্ট্র সুইজারল্যাণ্ড সত্যই আদর্শস্থানীয়। জনসংখ্যা যদিও অপরিহার্য, তথাপি রাষ্ট্রীয় সম্মান, গৌরব এবং সুনাম জনসংখ্যার পরিমাণের উপর নির্ভর করে না। তা প্রধানত নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের জনসমষ্টির শিক্ষা, সংস্কৃতি, আত্মত্যাগ, পরার্থপরতা এবং চরিত্রের সৌন্দর্যের উপর।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions