ভূখন্ড কাকে বলে?
ভূ-খণ্ড (Territory): জনসমষ্টি যেমন রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য তেমনি একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড রাষ্ট্রের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, কারণ জনসমষ্টিকে কোন না কোন স্থানে স্থায়িভাবে বসবাস করতে হবে। স্থায়ি আবাসভূমিহীন ভবঘুরে যাযাবরেরা রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। এমন কী সুসভ্য ইহুদীরাও প্যালেস্টাইনে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বে রাষ্ট্র গঠন করতে পারে নি।
আবার ভূ-খণ্ড বলতে শুধু মাটির উপরিভাগকে বুঝায় না। মাটির নিচের সম্পদ, মাটির উপরে নদী, পাহাড়-পর্বত, এমনকি সমুদ্রের উপকূলভাগকেও বুঝায়। এখন সমুদ্রের বেলাভূমি থেকে বার মাইল পর্যন্ত জলরাশি রাষ্ট্রের অন্তর্গত বলে বিবেচিত হয়। ভূ-খন্ডের উপরিস্থিত আকাশও রাষ্ট্রের আয়ত্তে। অন্য দেশের এরোপ্লেন বিনানুমতিতে সে আকাশের উপর দিয়া উড়ে গেলে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অপরাধে অপরাধী হয়। ভূ-খন্ডের পরিমাণ নিয়েও সেকালে পণ্ডিতগণ অনেক বিচার-বিবেচনা করেছেন। এরিস্টটলের মতে, গাছপালা বৃদ্ধির যেমন একটা পরিমাণ আছে, রাষ্ট্রের জনসমষ্টির জীবন ধারণ এবং মানবিক বিকাশের জন্যও তেমন একটি সীমারেখা থাকা উচিত। তবে এও সত্য যে, তারা নগর-রাষ্ট্রের আদর্শ সামনে রেখে ভূ-খণ্ডের পরিসীমা নির্ধারণে আগ্রহী ছিলেন। আধুনিক দেশব্যাপী রাষ্ট্রের কল্পনা করতে তারা অপারগ ছিলেন। দার্শনিক রুশশা চোখের সামনে ফ্রান্স এবং স্পেনের মত বড় বড় রাষ্ট্র দেখেও ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সম্বন্ধে তার দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র আকারে যত ক্ষুদ্র হবে সে অনুপাতে তার শক্তিও তেমন বড় হবে। তাছাড়া, রাষ্ট্র আয়তনে বড় হলে তার মতে, শাসনকার্য চালানো কষ্টকর। লোকেরা দেশনায়কদের প্রতি প্রীতিবদ্ধ ও শ্রদ্ধাশীল থাকে না। প্রত্যেক লোককে রাষ্ট্রীয় কর্মে নিয়োগ করাও সম্ভব হয় না এবং একই আইন দেশের সর্বত্র চালানোও অসুবিধাজনক। তার মতে, বৃহদাকার রাষ্ট্র রাজতন্ত্রের জন্য উপযোগী এবং মধ্যম পর্যায়ের রাষ্ট্র গণতন্ত্রের জন্য উপযোগী। এমন কী ডি-টকভিলও (De-Toqueville) বলেছেন, “বিশাল সাম্রাজ্যের মত জনসাধারণের কল্যাণ ও স্বাধীনতার বিরোধী আর কিছুই নেই।
আজকাল যুগ বদলেছে। পদ্মা ও যমুনা দিয়া প্রচুর পানি প্রবাহিত হয়েছে। বিজ্ঞানের উন্নতি, যানবাহন এবং সংবাদ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন সংগঠিত হয়েছে। সুতরাং কোন ধরাবাধা নিয়ম ভূ-খণ্ড সম্বন্ধে অনুসরণ করা ঠিক নয়। রাশিয়ার মত দেশ পৃথিবীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে রয়েছে। কিন্তু সেখানে শাসনকার্যের ব্যাঘাত হচ্ছে এমন কথা শোনা যায় না। পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্য সম্বন্বয়ে যে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়েছে তার ফলেও তেমন অসমতা অথবা শাসন কর্মে অসুবিধার কথা শোনা যায় না। আবার ক্ষুদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে যেমন লুক্সেমবার্গ ও জর্ডানের শাসনকার্যে যে অত্যন্ত দক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে তাও বলা যায় না। লুক্সেমবার্গের আয়তন মাত্র ৯৯৯ বর্গমাইল। তাছাড়া এ যুগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে টিকে থাকা শক্ত। অর্থনৈতিক দিকটাও ভেবে দেখতে | হবে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের মধ্যে সুইজারল্যান্ড সত্যই আদর্শস্থানীয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions