আদ্রতা কি?
আর্দ্রতা (humidity) : পানির পৃষ্ঠদেশ থেকে সব সময় পানির কিছু অণু জলীয় বাষ্প রূপে বাতাসে মিশছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা হল এর আর্দ্রতা। বাতাসের একটি নির্দিষ্ট উত্তাপে ও চাপে এটি সর্বাধিক কতখানি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারবে তা সুনির্দিষ্ট। এ রকম সর্বাধিক জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসকে সম্পৃক্ত অবস্থায় রয়েছে বলা হয় । উত্তাপ বাড়লে বাতাস আরো বেশি জলীয় বাষ্প নিতে পারে। সচরাচর আর্দ্রতার যে-পরিমাপ ব্যবহৃত হয় তাতে আর্দ্রতাকে সম্পৃক্ত অবস্থার সঙ্গে শতকরা হিসাবে তুলনা করা হয় । একে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা । সম্পৃক্ত অবস্থায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% । বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ঐ উত্তাপে সম্পৃক্ত অবস্থার অর্ধেক হলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা হবে ৫০% । অত্রতা মাপার যন্ত্রকে বলা হয় হাইগ্রোমিটার (hygrometer)। সচরাচর ব্যবহৃত একটি হাইগ্রোমিটারে পাশাপাশি দুটি থার্মোমিটার রাখা থাকে । এর একটির বাল্ব ভেজা সলতের মধ্যে জড়িয়ে সব সময় ভেজা রাখা হয় । সলতে থেকে পানি বাষ্পীভূত হয়ে এই বাল্বটিকে ঠাণ্ডা করে ফেলে বলে অন্য থার্মোমিটারটির তুলনায় এই থার্মোমিটারে উত্তাপ খানিকটা কম হয়। এই পার্থক্য থেকে একটি চার্টের মাধ্যমে আপেক্ষিক আর্দ্রতা জানা যায়। বাতাস কম আর্দ্র হলে বাষ্পীভবন বেশি হবে বলে ভেজা ও শুষ্ক থার্মোমিটারে দেখানো উত্তাপে পার্থক্যও বেশি হবে।
বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে বৃষ্টিপাতের এবং সার্বিকভাবে আবহাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের শরীর-স্বাস্থ্যও বাতাসের আর্দ্রতার দ্বারা প্রভাবিত হয় । আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি হলে ঘাম সহজে শুকায় না, তখন আমাদের গা চটচটে হয় ও আমরা অস্বস্তি বােধ করি । আবার আর্দ্রতা খুব কমে গেলে ঠোঁট-মুখ শুকিয়ে যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো নয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের একটি কাজ হল বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়িয়ে-কমিয়ে আর্দ্রতাকে আরামপ্রদ অবস্থায় রাখা। অধিক আর্দ্রতা সঁতসেঁতে অবস্থা সৃষ্টি করে, যা জিনিসপত্র ও কোনো কোনো যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের অনুকূল নয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions