Home » » আলকেমি কি

আলকেমি কি

আলকেমি কি?

আলকেমি (alchemy): বহু কাল আগে মিশর দেশকে আরবি ভাষায় বলা হত ‘অল্-কিমিয়া' । অল্-কিমিয়া থেকে ‘আলকেমি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। বর্তমানে অবশ্য আলকেমি' অর্থে বুঝানো হয় প্রাচীন ও মধ্যযুগের রসায়নচর্চা।

এ সময়ে মিশর, ভারতবর্ষ, গ্রিস, চীন প্রভৃতি দেশ অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ সভ্য ছিল। এসব দেশে তামা, সিসা, লোহা প্রভৃতি ধাতুর ব্যবহার প্রচলিত ছিল। কিন্তু সোনাকে তারা অন্য সব ধাতুর চেয়ে বেশি পছন্দ করত । কারণ সোনার উজ্জ্বল রঙ যেমন সুন্দর তেমনি অনেক দিনেও নষ্ট হত না । কিন্তু তা হলে হবে কি, সোনা তারা বেশি পেত না, আর তার পরিমাণ ছিল খুবই কম। এ জন্য রসায়নবিদেরা বেশি সোনা পাওয়ার লোভে সাধারণ ধাতুকে, যেমন- লোহা, সিসা, তামা প্রভৃতিকে সোনায় পরিণত করার চেষ্টা করতে লাগলেন। অন্য দিকে লতাপাতা ও ধাতুভস্মের গুঁড়ো ব্যবহার করে অমৃতরস তৈরি করার চেষ্টা করতে লাগলেন- উদ্দেশ্য সেই অমৃতরস পান করে তারা অমর হবেন, বেঁচে থাকবেন চিরকাল । আর সেই থেকে শুরু হল আলকেমি বা কিমিয়াবিদ্যার চর্চা। এই বিদ্যার চর্চাকারীদের বলা হত আলকেমিস্ট (alchemist)। আলকেমিস্টেরা তাঁদের কাজের ফল পাওয়ার জন্য গোপনে জাদুবিদ্যার আশ্রয় নিতেন, সেই সঙ্গে পরীক্ষানিরীক্ষাও চালাতেন। তারা একটার সঙ্গে আরেকটা জিনিস মেশাতেন, পোড়াতেন, সেদ্ধ করতেন। কখনো গুপ্ত গাছ-গাছড়া থেকে ঔষধ তৈরি করতেন এবং তা প্রয়োগও করতেন। কিন্তু তাদের কাজের বিজ্ঞানসম্মত কোনো পদ্ধতি ছিল না। তবে এসব পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক না কেন, তারা এর গোপনীয়তা রক্ষা করতেন এবং সাঙ্কেতিক চিহ্ন দিয়ে তা লিখে রাখতেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় তাঁদের আশা বা চেষ্টা কোনোটাই সফল হয় নি। লোহা বা তামাকে তারা কখনো সোনায় পরিণত করতে সক্ষম হন নি, খুঁজে পান নি অমৃতরস । সাঙ্কেতিক চিহ্ন দিয়ে লিখে রাখার ফলও ভালো হয় নি। পরের যুগের মানুষেরা এই লিপির পাঠোদ্ধার করতে পারেন নি। তাই হাজার বছর ধরে তারা কিমিয়াবিদ্যার চর্চা করে এলেও আসলে রসায়নবিদ্যার কোনো উন্নতিই হয় নি। তবে এই আলকেমিস্টদের দেখাদেখি এক দল মানুষ মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন কিমিয়াবিদ্যাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে । এদের মধ্যে জাবির, ইবনে সিনা, রজার বেকন (Roger Bacon)-এর নাম উল্লেখযোগ্য। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এক দল বিজ্ঞানী কিমিয়াবিদ্যা থেকে জাদুবিদ্যাকে আলাদা করে রসায়নবিদ্যাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গতিশীল করে তুলেছিলেন। ফলে গড়ে ওঠে বিজ্ঞানের এক নতুন শাখা, যার নাম রসায়নশাস্ত্র বা কেমিস্ট্রি ।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->