আলু

আলু

 আলু (potato): আলু বলতে সাধারণত গোল আলুকে বোঝানো হয়, যার বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum L। এর গোত্র Solanaceae। এর গাছের বৈশিষ্ট্য ভূনিমস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড (স্টলন) যা ভোজ্য টিউবার (আলু) উৎপন্ন করে। আলুর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্টলনের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। আলুর মূল অস্থানিক, কাণ্ড নরম, ধীরে ধীরে শাখায়িত হয়। পাতা বিজোড় পক্ষল কর্তিত এবং শীর্ষের পত্রকাটি সবচেয়ে বড়, ফুল ছোট, সাদা এবং | কিছুটা গোলাপি থেকে বেগুনি আভা থাকে। ফল গুটিকাকৃতি রেরি । এক একটি ফলে অসংখ্য পাতলা, চ্যাপটা ডিম্বাকৃতি বীজ থাকে। আলুর আকার, আকৃতি, বর্ণ, চক্ষুর গভীরতা ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের হতে পারে, যার উপর নির্ভর করে জাত উদ্ভাবিত। বড়, মধ্যম এবং ছোট আকারের আলুর মধ্যে প্রথমোক্তটির মধ্যে ফাকা থাকে বলে এবং শেষোক্তটি বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আলুর ছাল মসৃণ বা শল্কযুক্ত হতে পারে । ছালের রঙ হালকা ঘিয়ে থেকে লাল, খয়েরি, বেগুনি হতে পারে। আলুর গায়ে ছোট বড় গর্ত আকৃতির থাকে যাতে কুঁড়ি থাকে। এগুলোকে চোখ বলা হয়। এক একটি চোখে বেশ কয়েকটি কুঁড়ি থাকতে পারে। আলুর ভিতরের শাঁসটা সাদাটে, হলুদ, মাখন রঙের বা লালচে হতে পারে, তবে মাখন রঙেরটাই অধিক জনপ্রিয় । শসটা হতে পারে আঠাল বা বেলে ধরনের । বিশ্বের বহু দেশে আলু অন্যতম প্রধান খাদ্য হিসাবে আবাদ করা হলেও আমাদের মতাে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে এর চাষ সম্প্রসারণে বড় বাধা এর সংরক্ষণ। আলু সংরক্ষণের জন্য আমাদের দেশে পর্যাপ্ত হিমঘর বা কোল্ড স্টোরেজ নেই।

আলুতে ৬৫-৮০ ভাগ শ্বেতসার থাকে। সদ্য আহরিত পরিণত আলুতে খুব কম পরিমাণ চিনি থাকে এবং বড় আলুর চেয়ে ছোট আলুতে অধিক চিনি থাকে । এ চিনির মধ্যে রয়েছে ক্রোজ, গ্লুকোজ এবং ফ্ৰকটোজ । আলু এনজাইম সমৃদ্ধ । কয়েক রকমের এনজাইম এতে পাওয়া যায় ।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->