Home » » ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ

ইলিশ মাছ (hilsa / ilisa)

এ সকল ইলিশ জাতীয় মাছের বৈশিষ্ট্য হল এদের পুরো জীবন কাটে সমুদ্রে, কিন্তু যৌবনের একটা পর্যায়ে নদীতে আসে ডিম পাড়ার উদ্দেশ্যে। ডিমধারী স্ত্রী মাছটির সাথে পাহারাদার পুরুষ মাছটিও থাকে বৈকি। দক্ষিণ-পশ্চিম | মৌসুমি বায়ু শুরু হলেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ সমুদ্রের মোহনা অঞ্চল ছেড়ে নদী বেয়ে উৎসমুখে পরিযায়ী হয়। বাংলাদেশের মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা ইলিশের অন্যতম বিচরণক্ষেত্র । নদীর স্রোত যেখানে কম সেখানে স্ত্রী ইলিশ বছরে ২,৮০,০০০ থেকে ১৮,০০,০০০ ডিম ছাড়ে। ডিম আকারে ১.৮ থেকে ২ মিলিমিটার। পুরুষ ইলিশ ডিম নিষিক্ত করে। ডিমের ভিতর কিছু তেল জাতীয় পদার্থ থাকার দরুন তা জলের তলায় ভাসমান থাকে এবং এই ডিমগুচ্ছ সূর্যতাপে মাত্র একদিনেই ফোটে। ইলিশের সদ্য ফোটা পোনা আকারে ২.৬ মিলিমিটার। এক সপ্তাহের মধ্যে ওরা সাঁতার কাটায় দক্ষ হয়ে ওঠে এবং চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ নদীতে থেকে সমুদ্রে চলে যায়। ইলিশের বড় পোনাকে জাটকা বলা হয়। দু' বছরে ইলিশ ডিম পাড়ে। এ জন্য জাটকা মাছ ধরা নিষেধ। ডিম ছাড়ার মৌসুমেও বয়স্ক ইলিশ ধরলে বংশবৃদ্ধিতে সঙ্কট দেখা দেয় । এতদিন বিশ্বাস করা হত ডিম নিষিক্ত হবার পর মা-বাবা আবার সাগরে ফিরে যায়। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এরা কখনো কখনো নদীতেই থেকে যায়। কখনো মোহনায় বিচরণ করে। ইলিশ মাছ দেখতে বড়ই সুন্দর, চকচকে রুপালি আঁশে ঝলমলে, লম্বায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। ওজনে আড়াই কেজি। এরা মূলত শাকাশী প্লাঙ্কটন ভোজী, অর্থাৎ সমুদ্র শৈবাল প্রধান আহার্য। পানির উপরতলায় আলো থাকায় সেখানে শৈবাল জন্মায়। কাজেই ইলিশ আঁক বেঁধে ওখানেই থাকে  তখন বড় জাল বা টানা জাল, ভাসা জাল, ডোবা ও বুজা। জালে ধরা পড়ে।

ইলিশ খুব সুস্বাদু। এ জন্য কদরও বেশি। জনপ্রিয় এই মাছটি আমাদের জাতীয় মাছ । | ইলিশের মতো দেখতে অন্য একটি ইলিশের নাম চন্দনা ইলিশ। এর আঁশ ইলিশের আঁশের চেয়ে বড়। গুচ্ছপাখনাও ছোট। শরীর হলুদের বদলে নীলচে । এরাও সামুদ্রিক, তবে এরা ডিম পাড়তে নদীতে যায় না। মোহনাতেই ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফোটায় । এটি ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->