ইরি ধান
ইরি (IRRI)
ইরি বাংলাদেশে বহুল পরিচিত ধানের নাম। এই ধান যে প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করেছিল সেই প্রতিষ্ঠানের নামেই ধানটি পরিচিতি লাভ করে। তবে এই প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত কিছু উন্নত জাতের ধানের নামে ইরি শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই আমাদের দেশে ইরি কথাটিকে সমস্ত উচ্চ ফলনশীল ধানের সাধারণ নাম হিসাবেও অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। ইরি প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (International Rice Research Institute)। এটি ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত ।
ইরির বিজ্ঞানীরা ইন্দোনেশিয়ার ‘লতা ও চীনের ‘ডিজি উজেন' নামক দুই জাতের ধানের মধ্যে পরাগায়ণ ঘটিয়ে সৃষ্টি করেন এই জাতের ধান। অন্যান্য প্রচলিত ধানের তুলনায় এর ফলন হয় তিন গুণ, ফলন-কালও কম। তবে ধানগাছ খর্বাকৃতির। প্রতিষ্ঠানের নামে এবং পরীক্ষার ক্রমানুসারে এর নাম রাখা হয় ইরি-৮। আউশ বা বোরো মৌসুমে আমাদের দেশে এই ধানের চাষ করা হয় । উন্নয়নশীল দেশে ‘সবুজ বিপ্লব' সংগঠনে ইরি-৮-এর অবদান অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানটি এর পর অনেক সফল ধান উদ্ভাবন করে । যেমন ইরি-২০ আমাদের দেশে জনপ্রিয় ইরিশাইল নামে সমাদৃত।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইরি সারা পৃথিবীর ধান নিয়ে। গবেষণা করছে । বেশি ফলনক্ষম জাত ছাড়াও ফলনসময় হ্রাস এবং খরা, বন্যা, অধিক সময় ধরে জমে থাকা পানি, লবণাক্ততা, রোগ ইত্যাদি নানান প্রতিকূলতা রোধী ধানবীজ সংরক্ষণের দায়িত্বও এই প্রতিষ্ঠানের । হাজার হাজার বছর ধরে ধানে যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়ে আসছে তার ধারাবাহিক ইতিহাস ধরে রাখা একটি বড় মাপের কাজ। এই কাজটি এখন বিভিন্ন দেশে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (Bangladesh Rice Research Institute), সংক্ষেপে ব্রি' (BRRI)।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions