ঋতু কাকে বলে?
ঋতু (season):
ভূপৃষ্ঠের জলবায়ুর বিশেষ বিশেষ তারতম্য অনুসারে বছরের বিভাগকে ঋতু বলা হয় । তাপের আধিক্য বা স্বল্পতার কারণে পর্যায়ক্রমে জলবায়ুর যে অবস্থান্তর ঘটে তাকে ‘ঋতু-পরিবর্তন' বলে । পৃথিবীর কক্ষপথ কিছুটা ডিম্বাকার হওয়ায় পৃথিবীতে ঋতুর বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। আর সূর্যরশ্মি সারা পৃথিবীতে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে না বলে সব জায়গায় ঋতুও এক হয় না। ঋতু প্রধানত চার প্রকার- বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত।
পৃথিবী নিজ অক্ষে সূর্যের (দ্র) চারদিকে ঘুরবার সময় কক্ষতলের সঙ্গে প্রায় ৬৬.৫° কোণ করে নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করে। এভাবে সূর্যকে প্রদক্ষিণের ফলে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধ কখনো সূর্যের দিকে হেলে পড়ে, আবার কখনো-বা দূরে সরে যায়। এতে সূর্য এক বার আলো ছড়ায় উত্তর গোলার্ধে, আরেক বার দক্ষিণ গোলার্ধে। উত্তর গোলার্ধে যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখন সেই অঞ্চলের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকাল; আর | দক্ষিণ অঞ্চলের দেশগুলোতে শীত। আবার খাড়া সূর্যরশ্মির ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের দেশগুলোতে যখন গ্রীষ্মকাল, তখন উত্তর অঞ্চলে শীত। প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর এই পরবর্তন ঘটে। এর মধ্যে সূর্যকে দু' বার বিষুবরেখা (equator) পার হতে হয়। ২১শে মার্চ এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য সরাসরি বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এই দুই বিশেষ তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান । এর ফলে ২২শে মার্চ থেকে ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস উত্তর মেরুতে সব সময় দিন এবং দক্ষিণ মেরুতে সব সময় রাত হয় । আবার ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১শে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস উত্তর মেরুতে অবিরত রাত এবং দক্ষিণ মেরুতে অবিরত দিন থাকে ।
উত্তর গোলার্ধে ২১শে মার্চ পর্যন্ত বসন্তকালের মাঝামাঝি অবস্থা থাকে। এ জন্য ২১শে মার্চকে বাসন্তবিষুব বা মহাবিষুব (spring or vernal equinox) বলে । আবার ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকালের মাঝামাঝি অবস্থা থাকে। এ জন্য ২৩শে সেপ্টেম্বরকে শারদবিষুব বা জলবিষুব (autumnal equinox) বলে ।
২১শে মার্চ থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তর অয়নান্ত চলে । এ সময় উত্তর গোলার্ধে সূর্যকিরণ লম্বা বা খাড়াভাবে পড়ে এবং দিনের দৈর্ঘ্যও সবচেয়ে বেশি হয়। এই কারণে উত্তর গোলার্ধে এ সময় গ্রীষ্মকাল থাকে। ২১শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও গরম এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। আবার দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত অর্থাৎ দিন সবচেয়ে ছোট হয় এবং সেখানে তখন খুব শীত পড়ে । ২১শে জুন মধ্যাহ্নে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই অক্ষাংশ সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ সীমা বলে ২১শে জুনকে উত্তর অয়নান্ত দিন বা উত্তরায়ণ দিন (summer solstice) বলা হয় ।
২১শে জুন থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণ অয়নান্ত। ২২শে ডিসেম্বর তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। আবার উত্তর গোলার্ধে এর ঠিক উল্টোটি ঘটে। ২২শে ডিসেম্বর ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে মধ্যাহ্ন-সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণায়নে এটাই সূর্যের শেষ অবস্থান। তাই ২২শে ডিসেম্বরকে দক্ষিণায়ন দিন বা দক্ষিণ অয়নান্ত দিন (winter solstice) বলে । এ সময় উত্তর গোলার্ধে শীতকাল থাকে।
পৃথিবীর জলবায়ু ও তাপ পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য অনুসারে বৎসরকে ৪টি ঋতুতে ভাগ করা হলেও বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষে ৬টি ঋতুর নিয়ম প্রচলন আছে । এখানে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠকে গ্রীষ্ম, আষাঢ়-শ্রাবণকে বর্ষা, ভাদ্র-আশ্বিনকে শরৎ, কার্তিক-অগ্রহায়ণকে হেমন্ত, পৌষ-মাঘকে শীত এবং ফাল্গুন-চৈত্রকে বসন্ত বলা হয় ।
পৃথিবীতে এমন দেশও আছে, যেখানে বৎসরে দু'টি বা তিনটি ঋতু আছে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions