স্যাটেলাইট কাকে বলে
কৃত্রিম উপগ্রহ (satellite):
মানুষের মহাশূন্য অভিযানের যুগ শুরু হয় ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) কর্তৃক প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুৎনিক-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে । কৃত্রিম উপগ্রহ হল মানুষনির্মিত ব্যবস্থা যা শক্তিশালী রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষে স্থাপিত হয় এবং পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে যায় চাঁদের মতো। স্পুৎনিক-১-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বহু কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপিত হয়েছে। এ রকম অনেক উপগ্রহ আজ নিত্য আমাদেরকে বহু রকম কাজে সহায়তা করছে। এদের আকার, আয়তন, কাজ বিচিত্র রকমের । এদের কার্যকাল শেষে এক পর্যায়ে নিজেদের যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ইত্যাদি ক্ষয় হয়ে যায় । মহাশূন্যে নানা রকম কণিকার সঙ্গে সংঘাতে গতি মন্থর হয়ে এক সময় এদেরকে ক্রমে পৃথিবীর কাছে চলে আসতে হয় । কক্ষপথে থাকার ন্যুনতম গতি বজায় না রাখতে পেরে এরা তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে এবং তার ঘর্ষণে জ্বলে উঠে ধ্বংস হয়ে যায় । | নিজ নিজ কাজের প্রয়ােজনীয় যন্ত্রপাতি কৃত্রিম উপগ্রহে থাকে। সবগুলোকেই পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য এবং পৃথিবীতে নিজেদের অবস্থান ঘোষণার জন্য বেতারব্যবস্থা বহন করতে হয়। কাজ অনুসারে বর্তমান কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে কয়েকটি দলে বিভক্ত করা যায় ।
যোগাযোগ উপগ্রহগুলো পৃথিবীর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টেলিফোন আলাপ, অন্যান্য টেলিসঙ্কেত, টেলিভিশন প্রোগ্রাম ইত্যাদি পৌছে দিতে সাহায্য করে । ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে, এমনকি বাড়ির ছাদে ডিশ অ্যান্টেনা দিয়ে আমরা এদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে সমলয়ে চলার ব্যবস্থা করলে এদের অনেকগুলোকে পৃথিবী থেকে স্থির দেখায়। এরা ভূ-স্থির উপগ্রহ ।
আবহাওয়া উপগ্রহগুলো পরিক্রমাপথে বায়ুমণ্ডলে মেঘ, ঘূর্ণি ইত্যাদির ছবি তুলে প্রেরণ করে। অন্যান্য আবহাওয়া-তথ্যও দেয়, যার ফলে বিশাল জায়গার আবহাওয়া সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়। দূর-অনুধাবন উপগ্রহগুলো ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবর্তন, কৃষি, বন, মৎস্য ইত্যাদির তথ্য নিয়মিত পাঠায় যা টেলিভিশনের মতো পর্দায় বিস্তারিত মানচিত্রে ফুটে ওঠে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও এ রকম উপগ্রহ বহু ধরনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানও চালিয়ে থাকে। কৃত্রিম উপগ্রহের পক্ষে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সহজ হয় বলে জ্যোতির্বিদ্যার কাজেও কোনো কোনো উপগ্রহ ব্যস্ত রয়েছে। বিমান চালনা ও সমুদ্রে জাহাজ চালনার সুবিধার্থে কিছু দিগদর্শক উপগ্রহ রয়েছে। আর কিছু উপগ্রহ রয়েছে যেগুলো যথেষ্ট গোপনে কাজ করে, সেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions