Photography / ফটোগ্রাফি / আলোকচিত্রবিদ্যা
ফটোগ্রাফি কি
সুবেদী পৃষ্ঠতলের উপর আলো অথবা অন্যান্য প্রকার বিকিরণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্রিয়ার মাধ্যমে দৃশ্যমান প্রতিবিম্ব গঠন প্রক্রিয়া। প্রচলিত অর্থে, আলোকচিত্র গ্রহণকালে সিলভার হ্যালাইডসমূহে পরিবর্তন সংঘটনে আলোর ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। এসব পরিবর্তন হতে পারে অদৃশ্য। তখন প্রতিবিম্ব দৃশ্যমান করার জন্য ডেভেলপারের প্রয়োজন হয়। আবার অন্য ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবর্তন সরাসরি দৃশ্যমান হতে পারে। অধিকাংশ আলোকচিত্র প্রথম ধরনের এবং ডেভেলপারের কাজ হচ্ছে এক্সপোজকৃত সিলভার হ্যালাইডকে সিলভারে রূপান্তরিত করা। যে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তার উজ্জ্বল অংশগুলি অন্ধকার অংশগুলি থেকে অধিক এক্সপোজার দেয়; এভাবেই নেগেটিভ পাওয়া যায়। নেগেটিভ প্রিন্ট করে পজিটিভ অর্থাৎ আলোকচিত্রটি পাওয়া যায়। সরাসরি পজিটিভ প্রতিবিম্ব পাওয়া যায় সরাসরি বিশেষ ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করে। আলোকচিত্রের প্রধান শাখাসমূহ হচ্ছে। অবলোহিত, অতিবেগুনি, হাই-স্পীড ও স্টেরিওস্কোপিক ফটোগ্রাফি, ফটোগ্রাফিক ফটোমেটি, কেন্দ্রীণ কণা রেকর্ডিং এবং মাইক্রোফটোগ্রাফি।
অবলোহিত আলোকচিত্র :
বিশেষ ধরনের সুবেদী রঙ বিশিষ্ট ইমালশন প্রায় ১৩০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত বিকিরণে সাড়া দিতে পারে। সেজন্য বর্ণালি, তারকা ও উষ্ণ বস্তুসমূহের মতো অবলোহিত নিকটবর্তী বিকিরণবিশিষ্ট বস্তুসমূহের আলোকচিত্র গ্রহণ সম্ভব। যেসব বস্তু নির্বাচিতভাবে অবলোহিত-নিকটবর্তী বিকিরণ প্রেরণ, নিঃসৃত বা প্রতিফলিত করে, বিশেষত দৃশ্য বিকিরণ থেকে ভিন্ন উপায়ে, সেসব বস্তুরও আলোকচিত্র গ্রহণ সম্ভব। অনেক দূর। থেকে বা বেশ উঁচু থেকে গৃহীত অবলোহিত আলোকচিত্রসমূহ খুবই স্পষ্ট হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, আবহমণ্ডল নির্বাচিতভাবে। অবলোহিত-নিকটবর্তী বিকিরণ প্রেরণ করতে পারে এবং অবলোহিত-নিকটবর্তী বিকিরণে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিফলনক্ষমতার। কারণে ভূমিস্থ বস্তুসমূহের বৈসাদৃশ্য বৃদ্ধি পায়। অবলোহিত নিকটবর্তী বিকিরণে ক্লোরোফিলের স্বচ্ছতার কারণে আলোকচিত্রে ঘাস ও পর্ণরাজি সাদা দেখা যায়।
উত্তপ্ত বস্তুসমূহের পৃষ্ঠতলে তাপমাত্রার বণ্টন রেকর্ড করার জন্য অবলোহিত আলোকচিত্র ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সম্পূর্ণ অন্ধকারে আলোকচিত্র গ্রহণ (বস্তুটি কেবল অবলোহিত আলো দ্বারা আলোকিত হয়), অপরাধবিজ্ঞানের নানা কাজে, পরিবর্তিত বা বিনষ্ট দলিলপত্রের মূল রচনার পাঠোদ্ধার এবং বস্ত্র শিল্পের ক্ষেত্রে অবলোহিত আলোকচিত্র ব্যবহার করা হয়। আমাদের ত্বক অবলোহিত আলোর ক্ষেত্রে কিছুটা স্বচ্ছ প্রতিভাত হওয়ার কারণে অধস্তৃক শিরাসমূহের স্পষ্টতা রোগনির্ণয়ে সাহায্য করে।
অতিবেগুনি আলোকচিত্র :
মুদ্রণ সংক্রান্ত কাজ, স্পেকট্রোগ্রাফি এবং ফটোমাইক্রোগ্রাফিতে এটি ব্যবহৃত হয়। খনিজ অনুসন্ধান, পুলিশের তদন্তকাজ, জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারিতেও এটি ববহৃত হয়ে থাকে। অতিবেগুনি আলোকচিত্রের দুটি পদ্ধতি হচ্ছে (১) প্রতিপ্রভা পদ্ধতি (fluorescence method); এবং (২) প্রতিফলিত অতিবেগুনি পদ্ধতি (reflected ultraviolet method)। প্রতিভা পদ্ধতিতে বস্তুটিকে অতিবেগুনি আলো দ্বারা আলোকিত করা হয় এবং প্রতিফলিত অতিবেগুনি আলো শােষণ ও কেবল দৃশ্য প্রতিভ আলোই যাতে ফিমে আসতে পারে তার জন্য ক্যামেরায় একটি ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয়োক্ত পদ্ধতিতে অতিবেগুনি উৎস ব্যবহৃত হয় এবং ক্যামেরায় একটি ফিল্টার রাখা হয় যাতে কেবল অতিবেগুনি আলোই ফিলেম পৌছতে পারে।
উচ্চগতি আলোকচিত্র (High-speed photography) :
সাধারণ শাটারসমূহের চেয়ে স্বল্পতর এক্সপোজার সময়ের আলোকচিত্র এবং সবিরাম ফিল্ম চলনবিশিষ্ট মোশন পিকচার ক্যামেরার চিত্র কম্পাঙ্কের চেয়ে দ্রুততর কম্পাঙ্কের চিত্র সংশ্লিষ্ট আলোকচিত্র সংক্রান্ত বিষয়ই উচ্চগতি আলোকচিত্রের অন্তর্গত। প্রযুক্তিগত গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে এ ধরনের আলোকচিত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ফটোমাইক্রোগ্রাফি (Photomicrography) :
মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণযন্ত্রে গঠিত বিম্বের আলোকচিত্র গ্রহণের জন্য প্রয়োজন একটি অপটিক্যাল বেঞ্চ যার উপর একটি আলোকন ব্যবস্থা, একটি কম্পাউন্ড মাইক্রোস্কোপ এবং মাইক্রোস্কোপ আইপিসের সঙ্গে সংযুক্ত একটি লেন্সবিহীন ক্যামেরা একই সরলরৈখিক বিন্যাসে রক্ষিত হয়। মাইক্রোস্কোপের সঙ্গে একটি সাধারণ ক্যামেরা সংযুক্ত করেও ভালো আলোকচিত্র গ্রহণ সম্ভব। এক্ষেত্রে বিবর্ধনের চেয়ে বিশ্লেষণ-ক্ষমতা (resolving power) অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ বিশ্লিষ্টকরণ ঘটে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দ্বারা।
স্টেরিওস্কোপিক আলোকচিত্র (stereoscopic Photography) :
আন্তরাক্ষিক বা অন্যান্য উপযুক্ত দূরত্ব দ্বারা পৃথকীকৃত ভিউপয়েন্টসমূহ থেকে দুটি এক্সপোজারের জন্য একই ক্যামেরার লেন্স ঘুরিয়ে বা একই ফিল্মে একজোড়া এক্সপোজারের জন্য বিম্ব বস্তু বা ক্যামেরা ঘুরিয়ে যদি পর পর দুটি পৃথক আলোকচিত্র গ্রহণ সম্ভব হয় তাহলে স্টেরিওস্কোপিক আলোকচিত্র পাওয়া যায়। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুটি ক্যামেরার সাহায্যে একই সময়ে দুটি আলোকচিত্র গ্রহণের মাধ্যমে অথবা স্টেরিওস্কোপিক ক্যামেরা ব্যবহার করে স্টেরিওস্কোপিক আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
ফটোগ্রাফিক ফটোমেট্রি (Photographic photometry) :
আলোকচিত্রের সাহায্যে বিকিরণের তীব্রতা অথবা তীব্রতার বর্ণালি-বণ্টনের পরিমাপ গ্রহণ সম্ভব। যে বিকিরণের তীব্রতা পরিমাপ করা হবে তার তুলনা করা হয় একটি প্রমিত উৎসের সঙ্গে, উভয় উৎস দ্বারা সৃষ্ট ফটোগ্রাফিক ঘনত্ব মেলানোর মাধ্যমে।
মাইক্রোফটোগ্রাফি (Microphotography) :
অতি হ্রাসকৃত স্কেলে আলোকচিত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া। মাইক্রোফিল্মিং হচ্ছে অতিহ্রাসকৃত আকারে দলিলপত্রাদির প্রতিলিপি সংরক্ষণের বিশেষ একটি পদ্ধতি। সাধারণত ১৬ ও ৩৫ মিমি ফিলেম মাইক্রোফিল্ম করা হয়; তবে রোল, স্ট্রিপ ও স্ট্রিপসংগ্রহ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ৭০ ও ১০২ মিমি প্রশস্ত ফিল্ম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলো থেকে তৈরি নেগেটিভ বা কন্টাক্ট পজিটিভ ফিল্ম বা কাগজের প্রিন্ট বিবর্ধিত করে পড়া যায়। এজন্য বিশেষ ধরনের প্রক্ষেপণ-সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। রিডারপ্রিন্টারে বিম্ব অবলোকন করা যায় এবং প্রয়োজনে কাগজের একটি প্রিন্ট নেওয়া যায়।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions