পদার্থ বিজ্ঞান / Physics
পদার্থ বিজ্ঞান কি
পূর্বে পদার্থবিজ্ঞান (Physics) এর নাম ছিলো প্রাকৃতিক দর্শন। পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতির সেইসব দিক নিয়ে আলোচনা করে যাদের মৌলিক নীতি এবং মৌলিক আইনের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। কালক্রমে বিভিন্ন বিশেষ বিশেষ বিজ্ঞান পদার্থবিজ্ঞান থেকে পৃথক হয়ে গিয়ে গবেষণার স্বতন্ত্র ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে। এই প্রক্রিয়ায় পদার্থবিজ্ঞান তার প্রাথমিক লক্ষ্য বজায় রেখেছে যেখানে রয়েছে প্রাকৃতিক বিশ্বের গঠন বোঝা এবং প্রাকৃতিক প্রতিভাসকে ব্যাখ্যা করা।
পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক অংশগুলো হলো বলবিদ্যা এবং ক্ষেত্ৰতত্ত্ব। বলবিদ্যায় কণা অথবা নির্দিষ্ট বলের অধীনে বস্তুর গতি আলোচনা করা হয়। ক্ষেত্রের পদার্থবিজ্ঞান হলো মধ্যাকর্ষণ, বিদ্যুৎচৌম্বকত্ব, কেন্দ্রীণ এবং অন্যান্য বল ক্ষেত্রের উৎস, প্রকৃতি এবং গুণাবলি আলোচনার বিজ্ঞান। একত্রে বলা যায় যে, বলবিজ্ঞান এবং ক্ষেত্ৰতত্ত্ব সবচেয়ে মৌলিক পদ্ধতি যা দিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিভাসকে বোঝা যায় এবং যার মাধ্যমে বিজ্ঞান সৃষ্টি হয়েছে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এইভাবে প্রাকৃতিক প্রতিভাস বোঝা।
পদার্থবিজ্ঞানে পুরাতন অথবা চিরায়ত ভাগ করা হতো প্রাকৃতিক প্রতিভাসের কিছু সাধারণ শ্রেণির উপর ভিত্তি করে যেখানে পদার্থবিজ্ঞানের পদ্ধতিগুলো বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এইসব বিভক্তি এখনও প্রচলিত কিন্তু তাদের অনেকগুলো এখন ফলিত পদার্থবিজ্ঞান অথবা প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা হিসাবে ক্রমাগত বেশি পরিচিতি লাভ করছে আর পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্নিহিত ভাগ বলে ক্রমাগত কম পরিচিত হচ্ছে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভক্তি বা শাখা করা হয় প্রকৃতিতে যেসব বিভিন্ন প্রকার গঠন দেখা যায় সেই অনুসারে।
পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা যতোটা বিষয় নিয়ে পরিচিত তার চেয়েও বেশি পরিচিত কতখানি নিখুঁতভাবে এবং গভীরতার সঙ্গে প্রত্যেক শাখা প্রকৃতিকে বুঝতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের লক্ষ্য হলো একটা একীভূত তাত্ত্বিক নকশা তৈরি করা গাণিতিক ভাষায় যার গঠন এবং আচরণ সব প্রাকৃতিক বিশ্বকে প্রতিফলিত করবে যতোটা সম্ভব ব্যাপক এবং গভীরভাবে। এই বিজ্ঞান তার নিজস্ব শৃঙ্খলার ধারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই সন্তুষ্ট, পদার্থবিজ্ঞান সব সময়ে চায় একই প্রতিভাসকে একটা অন্তর্নিহিত সুষম সঠিক প্রাকৃতিক গঠনের প্রকাশ হিসাবে বুঝতে। এই লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পদার্থবিজ্ঞান চিহ্নিত হয় নিখুঁত যন্ত্রপাতি, মাপন প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা এবং পরীক্ষণলব্ধ ফলকে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করার মাধ্যমে।
পদার্থবিজ্ঞানের মূল অংশগুলো হলো শব্দবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, জৈববিজ্ঞান, চিরায়ত বলবিজ্ঞান, বিদ্যুৎতত্ত্ব, বিদ্যুৎচুম্বকত্ব, তাপবিদ্যা, স্বপ্ন তাপমাত্রার পদার্থবিজ্ঞান, আণবিক পদার্থবিজ্ঞান, কেন্দ্রীণ পদার্থবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান, তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions