Home » » পিটুইটারি গ্রন্থি

পিটুইটারি গ্রন্থি

পিটুইটারি গ্রন্থি কাকে বলে / পিটুইটারি গ্রন্থি কি / Pituitary gland

পিটুইটারি গ্রন্থি

সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি  হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। কারণ এই গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত বিভিন্ন হরমোন অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকলাপ এবং দেহের নানাবিধ বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থিটি হাইপোফাইসিস (hypophysis) নামেও পরিচিত।  এটা হাইপোথ্যালামাসের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

মানুষের পিটুইটারি গ্রন্থি সেলা টার্দিকার (sela turcica) মধ্যে অবস্থিত। এটা আসলে স্ফেনয়েড হাড়ের মধ্যে গর্তবিশেষ। বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর পিটুইটারি গ্রন্থির মধ্যে বেশ গঠন বৈচিত্র্য দেখা যায়। মেরুদণ্ডী প্রাণীর পিটুইটারি গ্রন্থি মোটামুটি তিনটি অংশে বিভক্ত : সম্মুখভাগের (anterior), পশ্চাৎভাগের (posterior) এবং মধ্যভাগের লোব (intermediate lobes)। সম্মুখভাগ এবং মধ্যভাগের লোবকে একসঙ্গে অ্যাডেনোহাইপোফাইসিস (adenohypophysis) বলা হয়। পশ্চাৎভাগের লোব, পিটুইটারি বৃন্ত এবং মধ্যভাগের স্ফীতিকে (median erminence) একসঙ্গে নিউরো হাইপোফাইসিস বলা হয়।

পিটুইটারি গ্রন্থি রাসায়নিক গঠন প্রকৃতি অনুসারে তিন রকম হরমোন নিঃসরণ করে : (১) প্রোটিন হরমোন—এগুলো মূলত অনেক অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত, (২) গ্লাইকোপ্রোটিন হরমোন এগুলো প্রোটিন এবং চিনির অণু সমন্বয়ে গঠিত এবং (৩) পেপটাইড হরমোন—এগুলো স্বল্পসংখ্যক অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত।

প্রোটিন হরমোনসমূহ পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখভাগ অর্থাৎ অ্যাডেনোহাইপোফাইসিস থেকে নিঃসৃত হয়; যেমন—গ্রোথ হরমোন (growth hormone) এবং প্রোল্যাকটিন (prolactin)। এছাড়া গ্লাইকোপ্রোটিন হরমোনসমূহও, যেমন—থাইরয়েড গ্রন্থি উদ্দীপক হরমোন (thyroid-stimulating hormone), ফলিকল উদ্দীপক হরমোন (follicle-stimulating hormone), লুটিনাইজিং হরমোন (luteinizing hormone) প্রভৃতি অ্যাডেনোহাইপোফাইসিস থেকে নিঃসৃত হয়। এছাড়া পেপটাইড হরমোনসমূহের মধ্যে অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রফিন (ACTH) অ্যাডেনোহাইপোফাইসিস থেকে নিঃসৃত হয়; কিন্তু অক্সিটোসিন (oxytocin) এবং ভেসোপ্রেসিন (vasopressin or antidiuretic hormone) পশ্চাদবাগের লোব বা নিউরোহাইপোফাইসিস থেকে নিঃসৃত হয়। মেলানোসাইট-উদ্দীপক আরেকটি পেপটাইড হরমোন সাধারণ মধ্যভাগের লোব থেকে নিঃসৃত

পিটুইটারি-গ্রন্থি

মানুষের পিটুইটারি গ্রন্থিশৈশবে কারও পিটুইটারি গ্রন্থি কেটে ফেললে যে সকল পরিবর্তন ঘটে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : (১) শারীরিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়; (২) যৌনাঙ্গসমূহ পরিণত হয় না; ফলে স্বাভাবিক প্রজনন কর্ম ব্যাহত হয়; (৩) অ্যাড্রেনাল কর্টেক্স শুকিয়ে যায় এবং এখান থেকে কোনো স্টেরয়েড হরমোন উৎপন্ন না হওয়ার ফলে অনেক জৈবনিক ক্রিয়া বিঘ্নিত হয়; এবং (৪) থাইরয়েড গ্রন্থিও শুকিয়ে যায় এবং এর ফলে বিভিন্ন বিপাকক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। এ সকল পরিবর্তনের মূল কারণ সম্মুখভাগের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে কোনো হরমোন নিঃসত না। হওয়া। পশ্চাদভাগের লোব থেকে ভেসোপ্রেসিন হরমোন নিঃসত না হলে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস (diabetes insipidus) রোগ হয়। এর ফলে বুক দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায়। পশ্চাদভাগের পিটুইটারির হরমোনসমূহ আসলে হাইপোথ্যালামাসে তৈরি হয়। এজন্য পশ্চাদভাগের লোব পুরো কেটে ফেললেও হরমোনের ক্রিয়া পুরো বন্ধ হয়ে যায় না।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->